পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। এনিয়ে রাজনৈতিক সামাজিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা জন্ম দিয়েছে। প্রশ্নবিদ্ধ করেছে সরকারের দায়িত্বশীল পদে আসীনদের সর্তকতার ব্যাপারে। কি করে এই ব্যক্তি ওই দেশটি জামিন পেয়ে গেলো? সরকার-ই বা কি করেছেন?
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাবের সাবেক ও তৎকালীন সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তাঁদের মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন।
২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে আসে। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। ওই সময় তিনি দেশ ছাড়েন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন- যা গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে আদেশ দেন আদালত।
এখন আবার বেনজীর আহমেদ প্রসঙ্গ
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন, এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। আর এমন খবরে তোলপাড় পুরো দেশ। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মুখ খুলেছেন। বলেছেন, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। তিনি বলেছেন, পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা আশাবাদী। এরপরে তিনি আরও বলেন, আমরা ল’ফার্ম নিয়োগ করেছি। আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুত জামিন বাতিল করতে পারব এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব।
তবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অন্যখানে
এদিকে এই ধরনের ঘটনায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন বা পেতে পারেন ও জামিন নিয়ে নিতে পারেন-সে ধরনের আগাম বার্তা কি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ছিল? যদি থেকে থাকে তাহলে কেনো এখন সরকারকে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হলো? কেননা এখন শোনা যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে পুলিশের সাবেক এই মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের শর্তসাপেক্ষে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার ঘটনা। বলা হচ্ছে জামিনের কারণে সুচতুর বেনজীরকে দেশে ফেরাতে নতুন অনেক জটিলতা তৈরি হবে। কেননা এই ব্যক্তি একাধিক দেশের নাগরিক। তা-ই তার জামিনের শর্ত হিসাবে একটি পাসপোর্ট আদালতে জমা দিলেও তার আরও পাসপোর্ট আছে। সেগুলো ব্যবহার করে তিনি ইউরোপের যে কোনো দেশে চলে যেতে পারেন। যদিও ওই দেশটির আদালত তাকে মুক্তি দিলেও কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। বলা হয়েছে বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের সুস্পষ্ট অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। তবে প্রশ্ন হচ্ছে অন্যখানে। পুরো বিষয়ে কি সরকারের নজরে আছে বা ছিল? প্রশ্ন হচ্ছে দুবাইয়ের একটি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের শুনানির পর ২৭ জুলাই বেনজীর আহমেদের জামিন মঞ্জুরের আগে পরে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কি কোনো সংবাদ বা নজর ছিল? পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর পারস্পরিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করলেও বাকি দিকগুলির দিকে কি তাদের খেয়াল ছিল? কেননা সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলি ভালো করেই জানে যে, বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কোনো আনুষ্ঠানিক বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। একারণে প্রচলিত ও স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় আসামিকে হস্তান্তরের আইনি বাধ্যবাধকতা আরব আমিরাত সরকারের নেই। পুরো বিষয়টি নির্ভর করে দু’দেশের রাজনৈতিক ও উচ্চ পর্যায়ের কুটনৈতিক তৎপরতার ওপর। তা-ই এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ‘বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে’ কিংবা ‘আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা আশাবাদী’ বলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার করার পেছনে তি কোনো ধরণের সত্যতা আছে? না-কি শুধু কথা.. এমন প্রশ্ন সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে।