ফেডারেল আদালত নিউইয়র্ক স্টেটে স্থানীয় সরকার ও আইসের মধ্যে ২৮৭(জি) সহযোগিতা চুক্তি নিষিদ্ধ করার বিধান বহাল রাখলেও, মুখোশ পরা এজেন্টদের নিষিদ্ধ করার বিধানের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে। গত সোমবার ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের বিচারক মে এ ডি’অগাস্টিনো এ আদেশ দেন। তিনি ফেডারেল সরকারের করা অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার আবেদন আংশিকভাবে খারিজ করে রায়ে বলেন, টু এইট সেভেন (জি) চুক্তি নিষিদ্ধ করা জনকল্যাণ রক্ষা এবং স্টেট ও স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার কীভাবে হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক স্টেটের বৈধ ক্ষমতার মধ্যে পড়ে। ফলে আইনের এ অংশ কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে বিচারক ডি’অগাস্টিনো রায়ে উল্লেখ করেন, আইস এজেন্টদের মুখোশ পরা নিষিদ্ধ করার বিধান ফেডারেল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই বিধানের বাস্তবায়নে প্রাথমিক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক স্টেটের আইনসভা চলতি বছরের মে মাসে অভিবাসন-সংক্রান্ত একগুচ্ছ আইন পাস করে, যাতে গভর্নর ক্যাথি হোচুল স্বাক্ষর করেন। এসব আইনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারগুলোর সঙ্গে আইসিইর ২৮৭ (জি) চুক্তি নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে হাসপাতাল, স্কুল, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, ভোটকেন্দ্র এবং উপাসনালয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে আদালতের পরোয়ানা ছাড়া আইস অভিযান পরিচালনার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এছাড়া অভিযানে অংশ নেওয়া আইসিই এজেন্টদের পরিচয় গোপন করতে মুখোশ ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
রায়ের পর এক যৌথ বিবৃতিতে গভর্নর ক্যাথি হোচুল ও স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, ২৮৭ (জি) চুক্তি নিষিদ্ধ করার আইন বৈধ এবং এটি নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা জোরদার করবে। তাদের ভাষ্য, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল দায়িত্ব স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া নয়। তারা আরো জানান, মুখোশ-সংক্রান্ত বিধানে আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে নিউইয়র্ক স্টেট অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট ট্রাস্ট সম্প্রতি যেসব কাউন্টি ও সিটি আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে ২৮৭ (জি) চুক্তি রয়েছে, তাদের আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে এসব চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দায়ের করা আইনি চ্যালেঞ্জের পর নিউইয়র্কের অভিবাসন আইন নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে গভর্নর ক্যাথি হোচুল ও স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতি তারা বলেন, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর মধ্যে ২৮৭(জি) চুক্তি নিষিদ্ধ করার নিউইয়র্কের আইন বৈধ এবং এটি কমিউনিটির নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়তা করবে। তাদের মতে, স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত স্থানীয় অপরাধ ও জননিরাপত্তার বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়া; আইসিইর সঙ্গে সহযোগিতার খরচ বহনের দায় নিউইয়র্কের করদাতাদের ওপর পড়া উচিত নয়। তবে আদালত আইসিই এজেন্টদের মুখোশ পরা নিষিদ্ধ করার বিধানের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করায় তারা বলেন, মুখোশ পরা এজেন্ট নিউইয়র্ককে আরো নিরাপদ করে না বলে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা তারা পর্যালোচনা করছেন।
টু এইট সেভেন (জি) কর্মসূচি কী?
টু এইট সেভেন (জি) হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল কর্মসূচি, যার মাধ্যমে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট চুক্তির আওতায় আইসের সঙ্গে অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহযোগিতা করতে পারে। নতুন আইনের মাধ্যমে নিউইয়র্কে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।