ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কসহ ২৪ স্টেটের মামলা


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 05-08-2026

ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কসহ ২৪ স্টেটের মামলা

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন দফা শুল্কারোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ২৪টি স্টেট। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল এবং স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস ঘোষণা করেছেন, তারা একটি জোটের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসনের নতুন শুল্কারোপ ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করছে এবং এর ফলে দেশজুড়ে পরিবার ও ব্যবসার খরচ বেড়ে যাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন দফা শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত বলতে বোঝানো হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত কর বা আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) বসানোর পদক্ষেপ। এ শুল্ক সরাসরি বিদেশি সরকার বা কোম্পানির কাছ থেকে নেওয়া হলেও এর প্রভাব সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।

এ নতুন শুল্ক কার্যক্রমে ট্রাম্প প্রশাসন ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ৩০১ ব্যবহার করছে। প্রশাসনের দাবি, এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জোরপূর্বক শ্রম-এর মতো অনিয়ম মোকাবিলা করা এবং যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য স্বার্থের ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

গভর্নর হোচুল বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপিত নতুন শুল্ক সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের মতো কাজ করবে, যার ফলে খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য দৈনন্দিন পণ্যের দাম বাড়বে। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের পরিবার ও ব্যবসাগুলো যাতে বাণিজ্য নীতির নেতিবাচক প্রভাবের শিকার না হয়, সে জন্য রাজ্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পরও প্রশাসন নতুনভাবে শুল্কারোপের চেষ্টা করছে, যা তাদের মতে আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমাহীন নয় এবং নির্বাহী শাখা ইচ্ছামতো যেকোনো দেশের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করতে পারে না।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ৩০১ ব্যবহার করে নতুন শুল্কারোপ করেছে। রাজ্যগুলো দাবি করছে, প্রশাসন এ আইন ব্যবহারের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি এবং শুল্ক আরোপের প্রকৃত উদ্দেশ্য জোরপূর্বক শ্রম বন্ধ করা নয়, বরং ব্যাপকভাবে আমদানি পণ্যের ওপর নতুন কর চাপানো।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন বা আইইইপিএর আওতায় আরোপ করা ব্যাপক শুল্ক বাতিল করেছিল। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ১২২-এর আওতায় আরোপিত কিছু শুল্কও বাতিল করে। এরপর প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তি হিসেবে সেকশন ৩০১ ব্যবহার করেছে।

মামলায় স্টেট গুলো বলছে, সেকশন ৩০১ অনুযায়ী কোনো দেশের বাণিজ্য নীতি বা কার্যক্রম অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না, তা নির্ধারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআর কার্যালয়কে বিস্তারিত তদন্ত করতে হয়। কিন্তু প্রশাসন পর্যাপ্ত তদন্ত ছাড়াই বিভিন্ন দেশ ও পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্কারোপ করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্টেটগুলোর দাবি, ২০২৬ সালের মার্চে ট্রাম্প প্রশাসন ৫৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে সেকশন ৩০১-এর আওতায় তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দেয়। এরপর ২৩ জুলাই আগের শুল্ক কার্যক্রমের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন নতুন করে এসব দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ব্যাপক শুল্কারোপ করা হয়। মামলায় আরো বলা হয়েছে, একটি দেশের বিরুদ্ধে সেকশন ৩০১ তদন্ত সাধারণত জটিল এবং সম্পন্ন হতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কিন্তু প্রশাসন প্রকৃত তদন্ত ছাড়াই জোরপূর্বক শ্রম বন্ধের বিষয়টিকে ব্যবহার করে ব্যাপক শুল্ক কার্যকর করেছে।

স্টেটগুলো অভিযোগ করেছে, প্রশাসন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসিডিউর অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে। তারা বলছে, যথাযথ তদন্ত, জনমত গ্রহণ এবং যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা ছাড়াই শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের কাছে এসব শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্কের সঙ্গে এই মামলায় যোগ দিয়েছে অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড, মেইন, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নর্থ ক্যারোলিনা, ওরেগন, রোড আইল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ভারমন্ট, ওয়াশিংটন এবং উইসকনসিন।

এছাড়া কেনটাকি ও পেনসিলভানিয়ার গভর্নররাও এ আইনি উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছেন। স্টেটগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ মামলার উদ্দেশ্য হলো পরিবার, ভোক্তা এবং ব্যবসাগুলোকে এমন শুল্ক নীতির প্রভাব থেকে রক্ষা করা, যা তাদের মতে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)