নিউইয়র্ক স্টেটে জননিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে গত সোমবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তি ও আধুনিক সরঞ্জাম উন্নয়নে ১০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোচুল। এ অর্থের মাধ্যমে পুলিশ বিভাগ ও শেরিফের দফতরগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তারা আরো কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
ঘোষণা অনুযায়ী, ৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে ল এনফোর্সমেন্ট টেকনোলজি (লিটেক) গ্র্যান্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে। এ অর্থ নিউইয়র্ক সিটির বাইরে অবস্থিত পুলিশ বিভাগ ও কাউন্টি শেরিফের দফতরগুলোর প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম আধুনিকায়নে ব্যবহার করা হবে। বাকি ২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে একটি নতুন স্টেটব্যাপী রেকর্ডস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরিতে, যা বহু দশক ধরে ব্যবহৃত পুরোনো তথ্যভাণ্ডার ব্যবস্থার পরিবর্তে চালু হবে। নতুন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং রিপোর্টিং আরো কার্যকর হবে।
গভর্নর ক্যাথি হোচুল বলেন, নিউইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে যারা প্রতিদিন জনগণের সুরক্ষায় কাজ করেন, তাদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তুলে দিতে হবে। তিনি বলেন, এই বিনিয়োগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো দক্ষ করে তুলবে, জননিরাপত্তা জোরদার করবে এবং অপরাধ দমন ও তদন্তে তাদের সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি স্টেট জুড়ে অপরাধ কমানোর সরকারের সামগ্রিক কৌশলকে আরো শক্তিশালী করবে।
এ কর্মসূচি পরিচালনা করবে নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব ক্রিমিনাল জাস্টিস সার্ভিসেস। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্র্যান্টের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে গুলি শনাক্তকারী অ্যাকুস্টিক সেন্সর ব্যবস্থা, ড্রোন, ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি, থ্রিডি লেজার ক্রাইম সিন স্ক্যানার, ট্রমা কিট, অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, ব্যালিস্টিক ভেস্ট, ট্রাফিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম, উন্নত আলোকসজ্জা ব্যবস্থা, বিশেষায়িত রেকর্ডস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার, টহল গাড়ির সরঞ্জাম এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা উপকরণ।
এছাড়া গ্র্যান্টের অর্থ ব্যবহার করে ৯১১ কল সেন্টার, জরুরি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, পার্কিং ও কোড এনফোর্সমেন্ট এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত করার জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মও আধুনিকায়ন করা যাবে।
ডিভিশন অব ক্রিমিনাল জাস্টিস সার্ভিসেসের কমিশনার রোসানা রোসাডো বলেন, গভর্নর হোকল জননিরাপত্তার জন্য রেকর্ড পরিমাণ অর্থায়ন নিশ্চিত করেছেন। এই অর্থায়নের মাধ্যমে সংস্থাটি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ও কমিউনিটি সংগঠনকে কার্যকর সহায়তা দিতে পারবে এবং নিউইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্ক সিটির বাইরে অবস্থিত প্রায় ৫০০টি সংস্থা আবেদন করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাম, শহর, সিটি ও আদিবাসী পুলিশ বিভাগ এবং কাউন্টি শেরিফের দফতর। প্রতিটি সংস্থার পূর্ণকালীন শপথ নেওয়া কর্মকর্তার সংখ্যার ভিত্তিতে অনুদানের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। যেসব সংস্থায় ১০ জন বা তার কম কর্মকর্তা রয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ এক লাখ ডলার পর্যন্ত অনুদান পেতে পারবেন। আর এক হাজার এক জনের বেশি কর্মকর্তা রয়েছে এমন বড় সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ ৬ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ পাবে।
নতুন রেকর্ডস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটি স্থানীয় পুলিশ প্রধান, কাউন্টি শেরিফ এবং জেলা অ্যাটর্নিদের দীর্ঘদিনের দাবির ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে অঙ্গরাজ্যের ১৫০টিরও বেশি ছোট ও গ্রামীণ পুলিশ বিভাগ, যাদের নিজস্ব তথ্যব্যবস্থা আধুনিক করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না, তারা এ নতুন ব্যবস্থার সুবিধা পাবে। নতুন সিস্টেমটি সবার চাহিদা পূরণ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, পুলিশ প্রধান, শেরিফ এবং জেলা অ্যাটর্নিদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে ডিভিশন অব ক্রিমিনাল জাস্টিস সার্ভিসেস।
গভর্নর হোকলের প্রশাসন জানিয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি জননিরাপত্তা খাতে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছেন। ২০২৭ অর্থবছরের অনুমোদিত বাজেটেও অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধ দমন, তদন্ত এবং নতুন ধরনের হুমকি যেমন থ্রিডি প্রিন্টেড আগ্নেয়াস্ত্র ও ডিআইওয়াই মেশিনগান মোকাবিলায় রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আজ থেকেই যোগ্য সংস্থাগুলোর কাছে গ্র্যান্টের জন্য আবেদনপত্র পাঠানো হবে। তবে অর্থ পেতে হলে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ‘লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট’-এর সব বিধান মেনে চলতে হবে। আবেদনপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অর্থ দিয়ে যানবাহন, আগ্নেয়াস্ত্র বা কন্ডাক্টেড এনার্জি ডিভাইস কেনা যাবে না। গ্র্যান্টের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা। নির্বাচিত সংস্থাগুলোর নাম আগামী শরতের শুরুতে ঘোষণা করা হবে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থায়ন চুক্তির মেয়াদ থাকবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত।
স্টেট গভর্নমেন্টের মতে, এ বিনিয়োগের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান আরো দ্রুত ও কার্যকর হবে, যা অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত এবং কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।