জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস আয়োজনের প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র বিক্ষোভ সমাবেশে পার্টির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেছেন, দেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘করদ রাজ্যে’ পরিণত করার চক্রান্ত চলছে। দেশবাসীকে এই চক্রান্ত রুখে দিতে হবে। তিনি বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত দেশবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করার পরিবর্তে ক্ষমতাসীন সরকার মার্কিন তোষণ নীতি অবলম্বন করছে। নজিরবিহীনভাবে জাতীয় সংসদ ভবন প্রঙ্গনে এই উদযাপন তারই স্বাক্ষ্য বহন করে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ও সংসদের তথাকথিত বিরোধী দল মিলিতভাবে দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব বিরোধী ভূমিকায় অবর্তীন হয়েছে। সম্মিলিত প্রতিরোধ ছাড়া দেশপ্রেমিক মানুষের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে জাতীয় সংসদ ভবন প্রঙ্গণ ব্যবহারের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র উদ্যোগে ৬ জুলাই সোমবার পল্টন মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব, কদম ফোয়ারা প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে পল্টন মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, জলি তালুকদার, ঢাকা মহানগর উত্তর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন প্রমুখ।
সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন বাংলাদেশের জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতীক এবং স্বাধীন রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সেই প্রাঙ্গণকে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস উদযাপনের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া স্বাধীনতা ও জাতীয় আত্মমর্যাদাবোধের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানি সামরিক জান্তার প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগী ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তাদের ভূমিকা ইতিহাসবিদিত। সেই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ ব্যবহারের অনুমতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননা। কমরেড ক্বাফী রতন বলেন, এই ধৃষ্টতাপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের অবিলম্বে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত নানা ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এ অবস্থয় জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক আয়োজন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নের জন্ম দেয়। সরকার জনগণের অনুভূতি ও দেশের মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রতীকসমূহকে ভবিষ্যতে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস বা অনুরূপ আনুষ্ঠানিক আয়োজনের জন্য ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার জন্য সরকারকে সতর্ক করেন। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সকল দেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পক্ষে। কিন্তু কোনো পরাশক্তির আধিপত্যবাদী নীতির অনুগামী হওয়া, কিংবা জাতীয় মর্যাদাকে খাটো করে এমন কর্মকাণ্ড কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সমাবেশ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা সংঘটিত করা ও স্বাধীনতা বিরোধী ভূমিকা রাখা একটি দলের প্রধান কর্তৃক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পরীক্ষিত মিত্র ঘোষণার প্রেক্ষিতে বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে অদ্যবধি মার্কিন যুক্তরষ্ট্র ও জামাত মিলিতভাবে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের বিপক্ষেই আছে। তারা পরস্পরের পরিক্ষীত মিত্র হলেও বাংলাদেশের মানুষ ও বিশ্বশান্তির শত্রু।
সমাবেশ থেকে সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন আগামী ৮ জুলাই সারাদেশে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও অবিলম্বে দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে জেলা উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।