আবারও হ্যাকড হলো প্রবাসে বাংলাদেশিদের মাদার সংগঠন হিসাবে পরিচিত ‘বাংলাদেশ সোসাইটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট’। গত কমিটির সময় (রব-রুহুল) একবার সোসাইটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছিল। সেই সময় সোসাইটির টিডি ব্যাংক থেকে হ্যাকাররা কয়েকদফায় অর্থ উঠিয়েছিল। সে অর্থের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। কোষাধ্যক্ষসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সময় উপযোগী ব্যবস্থা নেওয়ায় বাংলাদেশ সোসাইটির অ্যাকাউন্টে অর্থ ফেরত এসেছিল। যদিও সেজন্য অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছিল। এ নিয়ে একটি মামলাও হয়েছিল, একজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। অর্থ ফেরত পাওয়ায় এবং দায়িত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় সেই কমিটি সেই মামলা নিয়ে আর বেশিদূর এগোয়নি। মামলাটি তামাদি হয়ে যায়।
এবার আবারো বাংলাদেশ সোসাইটির অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টিডি ব্যাংকের কয়েকটি শাখা থেকে অ্যাকাউন্ট হ্যাকড করা হয়েছে। টিডি ব্যাংকের জ্যামাইকা, লং আইল্যান্ড এবং কিউগার্ডেন শাখা থেকে প্রায় ৭ হাজার ১০০ ডলারের মতো হ্যাকাররা নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে হ্যাকাররা সোসাইটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তার ইনফরমেশন চুরি করে তারাই নামে কার্ড বানিয়ে এ হ্যাকড করে বলে শোনা যাচ্ছে। একটি সূত্র জানায়, ওই সময় বাংলাদেশ সোসাইটির ওই অ্যাকাউন্টে মাত্র ৪ হাজার ডলার ছিল। হ্যাকাররা ওই শীর্ষ কর্মকর্তার আরেকটি সংগঠনের অর্থ সোসাইটির এ অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে এবং ৭ হাজার ১৩০ ডলার হাতিয়ে নেয়। ওই সংগঠনের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩৫০০ ডলার সোসাইটির অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকডের বিষয়টি জানাজানি হলে বাংলাদেশ সোসাইটির ওই শীর্ষ কর্মকর্তা ও কোষাধ্যক্ষ ব্যাংকে যান। তারা বিষয়টি ব্যাংক ম্যানেজারকে অবহিত করেন। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এখনো অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো বারবার কেন বাংলাদেশ সোসাইটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হচ্ছে? এর পেছনে কারা রয়েছে? বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং দোষী ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।
অন্য আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সোসাইটির আরো দুটো অ্যাকাউন্ট রয়েছে। একটি টিডি ব্যাংকে অন্যটি ওয়েবস্টার ব্যাংকে। ওই দুটো ব্যাংকের অর্থ ঠিকঠাক মতো রয়েছে। একটির মধ্যে রয়েছে সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট শাহ নেওয়াজের দেওয়া ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার। যা তিনি ভবন ক্রয়ের জন্য দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে রয়েছেন বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির কাছ থেকে পাওয়া ১ লাখ ২০ হাজার ডলার। এ অর্থ কবরসংক্রান্ত। যে অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছে সেটি ছিল সোসাইটির রেগুলার ট্রানজেকশনের অ্যাকাউন্ট।