অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে


সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ , আপডেট করা হয়েছে : 03-06-2026

অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে

দেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, কিশোর, চাকরিচ্যুত শ্রমিক ও গ্রামের যুবকদের মধ্যে। এ সমস্যা মোকাবিলায় রাষ্ট্র, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নাগরিক সমাজ, পরিবার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার মাসিক প্রতিবেদনে এতথ্য উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

এমএসএফের প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলতি মাসে অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত ২টি ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একটি ঘটনায় কুমিল্লার বরুড়ায় অনলাইন জুয়া নিয়ে বিরোধের জেরে বন্ধুদের হামলায় আহত কিশোর রাকিব হোসেন (১৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ মে ২০২৬ মারা যায়। অন্য ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‍্যাব ৫ জনকে আটক করে। আটককৃতরা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের মধ্যে একজন অনলাইন জুয়ার এজেন্ট বলে জানা যায়।

এমএসএফ এর পক্ষ থেকে বলা হয় যে, অনলাইন জুয়া শুধু একটি ধংসাত্মক খেলাই নয় বরং এটি একটি অর্থনৈতিক শোষণ, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, পারিবারিক সহিংসতা, শিশু ঝুঁকি এবং সাইবার অপরাধের মাধ্যমে বহুমাত্রিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ হয়ে উঠছে। যদিও বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী অনলাইন জুয়া দন্ডীয় অপরাধ, তবে আইনের পরিচিতি ও জনসচেতনতার অভাবে এ খেলা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। 

এদিকে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন পেশ করে আরো বলা হয় যে, মাসে মাসে মাদক সংক্রান্ত ১৪ টি ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের আটক সংক্রান্ত ২ টি ঘটনা, পুলিশের মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ২টি, ইয়াবা উদ্ধার সংক্রান্ত ৩টি, জুয়া ও মাদককে কেন্দ্র করে কিশোরদের সংঘর্ষ ১ টি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ২টি ঘটনা। এছাড়া অন্য ৪টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে হত্যা, মাকে হত্যা, মা ও পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং মাদকসেবীকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ঘটনা। এছাড়াও মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশের সম্পৃক্ততার ঘটনাও পাওয়া গেছে।

এই প্রতিবেদন দিয়ে এমএসএফ মনে করে,মাদক শুধু একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও জীবনের ক্ষতি করে না। এটি সহিংসতা, অপরাধ, দারিদ্র, পারিবারিক ভাঙন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। মাদক সমস্যার সঙ্গে সরকারের নীতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, সীমান্তপথে মাদক পাচার এবং নানা ধরনের অপরাধ জড়িত। অনেক সময় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের অভিযোগও উঠে আসে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও মানবাধিকার সম্মত আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

এছাড়া এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী বলা হয় যে, মে মাসে ৩২৬ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন । এ মাসে ধর্ষণের শিকার ৭৮জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৬জন, ধর্ষণ ও হত্যা ৬ জন। ধষর্ণের চেষ্টার শিকার ২৮ জন, এসিড সহিংসতার ৩ জন , যৌন হয়রানির শিকার ১৮, শারীরিক নির্যাতন ৪৩, আত্মহত্যা ৩০, অপহরণ ও নিখোঁজ ১২ ও হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৯ জন নারী। বেআইনি সালিশের শিকার ৬ জন ও নবজাতক উদ্ধার ৭ জন।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)