‘বনছায়ায় একদিন’ এই নামকরণে সবুজ বনে আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এর বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৪ মে, (রোববার)। নিউইয়র্কের লংআইল্যান্ডের হ্যাকশেয়ার স্টেট পার্কে অনুষ্ঠিত এই বনভোজনে ক্লাব সদস্যরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। ফলে বনভোজন পরিণত হয় আনন্দ-আড্ডায়। এদিন প্রবল বৃষ্টিপাতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বনভোজন করা যাবে কিনা। কিন্তু মিডিয়াকর্মীরা বৃষ্টিমুখর দিনটিকেই আনন্দ উৎসবে রাঙিয়ে তোলেন।
বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, নিউইয়র্ক প্রবাসীদের মধ্যে সম্প্রীতি ধরে রাখতে হলে বনভোজনের আয়োজন করা এবং এতে অংশ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই জন্য দেখা যায়, প্রবাসীরা বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে গ্রীষ্মকালে বনভোজনের আয়োজন করে। তিনি আরো বলেন, আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত একে-অন্যের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়া। এই অভিবাসী সমাজে সকল বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। আমরা সাংবাদিকদের বন্ধুদেরও এই বিষয়ে ভূমিকা রাখার আহবান জানান। তিনি বলেন, আমাদের পথচলায় ভুল হতে পারে, ভুল হলে ক্ষমা করে দেবেন। কথা দিচ্ছি, আগামীতে আমরা ভুল সংশোধন করে কল্যাণমুখি কাজে নিজেদের আরো সম্পৃক্ত করে রাখতে চেষ্টা করে যাব।
এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঢাকা সোসাইটির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী দুলাল বেহেদেু বলেন, এই প্রবাসী সমাজ আমাদের কাছে বাংলাদেশ। আমরা এই প্রবাসে একে-অন্যের নিকটজন। কারো বিপদে আমরা যেন একে-অন্যের পাশে দাঁড়াতে পারি-এটা হোক আমাদের অঙ্গীকার। তিনি সাংবাদিকদের সমাজ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রসংশা করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতিদ্বয় দর্পণ কবীর ও মোহাম্মদ সাঈদ এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মজুমদার এবং বনভোজন উপ-কমিটির আহবায়ক আবু কবর সিদ্দিক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে শওকত ওসমান রচি বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় যারা দমে যাননি এবং আমাদের অনুষ্ঠানে এসে ভালবাসা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি ক্লাবের সদস্য ও তাদের পরিবারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বনভোজনে সকালের নাস্তা পরিবশেনের সময় ছিল স্পটে লুচি ভাজার আয়োজন, যা সববেতদের অন্যরকমন আনন্দ দিয়েছে। এ ছাড়া গরম চা ও বিকেলে পিঁয়াজু রান্না করে পরিবেশনও ছিল বৈচিত্র্যময়। মধ্যাহ্নভোজে কাচ্চি বিরায়ানীর পরিবেশন নিয়ে ভোজনবিলাসীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করে।
বনভোজনে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছাড়াও ছিল আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র। র্যাফেল ড্র-’র প্রথম পুরস্কার সোনার চেইন জিতে নেন রোকেয়া দীপা, দ্বিতীয় পুরস্কার ল্যাপটপ পাহলভী এবং তৃতীয় পুরস্কার এ্যাপেল ওয়াচ পান মঞ্জুরুল ইসলাম। এ ছাড়া ছিল আরো আকর্ষণীয় পুরস্কার। লুডু খেলায় প্রথম হয়ে হাসিনা আক্তার পেয়েছেন কানের দুল।
বনভোজনে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন আফজাল হোসান এবং শেখ নীলিমা শশী।