নিউ ইয়র্কের পরবর্তী সিনেটর কে হবেন?


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 13-05-2026

নিউ ইয়র্কের পরবর্তী সিনেটর কে হবেন?

নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পরবর্তী সিনেট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান ডেমোক্র‍্যাট সিনেটর ও সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমার দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় নতুন প্রার্থীদের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। বিশেষ করে ২০২৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি)-এর নাম এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, একসময় ডেমোক্র‍্যাট ভোটারদের মধ্যে শুমারের জনপ্রিয়তা খুব শক্ত অবস্থানে থাকলেও এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে দলের ভেতরের প্রজন্মগত পরিবর্তন, গাজা যুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অবস্থানগত বিভাজন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক চাপ। এসব কারণে ডেমোক্র‍্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের সঙ্গে শুমারের দূরত্ব বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে এওসিকে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ২০১৮ সালে চমকপ্রদ জয়ের মাধ্যমে কংগ্রেসে প্রবেশ করেন এবং দ্রুতই জাতীয় পর্যায়ে প্রগতিশীল রাজনীতির মুখ হয়ে ওঠেন। নিউ ইয়র্ক সিটির শ্রমজীবী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র‍্যাট ভোটারদের বড় অংশ তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং তার শক্তিশালী তহবিল সংগ্রহ সক্ষমতা তাকে একটি বাস্তব প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে।

তবে এওসির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। দলের ভেতরে অনেকেই মনে করছেন, তিনি সিনেটের বদলে ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে যেতে পারেন। ফলে তিনি সিনেট নির্বাচনে আদৌ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, সেটি এখনো খোলাসা নয়।

অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রিচি টরেসকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং ইসরায়েল নীতি ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে প্রগতিশীল শাখার সঙ্গে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তার সমর্থনে কিছু কর্পোরেট ও প্রভাবশালী অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর সম্ভাব্য ভূমিকা তাকে আর্থিকভাবে শক্ত অবস্থানে রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এছাড়া প্যাট রায়ান, ড্যান গোল্ডম্যান, অ্যাড্রিয়ানো এসপাইয়াত এবং অন্যান্য কংগ্রেস সদস্যরাও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। রাজ্য পর্যায়ে অ্যাসেম্বলি সদস্য অ্যালেক্স বোরেসের নামও আলোচনায় রয়েছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে তার কাজের কারণে তিনি কিছু তরুণ ভোটারের কাছে পরিচিতি পাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি শুমার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এবং এওসি প্রার্থী না হন, তাহলে ডেমোক্র‍্যাট পার্টির মধ্যে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রাইমারি নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। সেই ক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক ডেমোক্র‍্যাট রাজনীতিতে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস দেখা যেতে পারে।অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টিও সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে, কারণ ডেমোক্রেটিক ভোট বিভক্ত হলে তারা রাজ্যটিতে শক্ত চ্যালেঞ্জ দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও নিউ ইয়র্ক ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র‍্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

নিউ ইয়র্কের আসন্ন সিনেট নির্বাচন এখন কেবল একটি আসন দখলের লড়াই নয়, বরং ডেমোক্রে‍টিক পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং প্রজন্মগত পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)