উন্নয়ন কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উচ্চপর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রকৌশলীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট চাকরিবিধি প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) নেতারা এসব কথা বলেন। আইইবির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর রমনায় সংগঠনটির সদর দফতরের কাউন্সিল হলে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা
সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)। সঞ্চালনা করেন সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল। দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে নতুন করে সরব হয়েছে। সভায় স্বাগত বক্তব্যে আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এ.টি.এম. তানবীর-উল-হাসান (তমাল) বলেন, দেশের উন্নয়ন, পেশাজীবী সমাজের কার্যক্রম এবং জাতীয় অগ্রগতির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি বলেন, “আইইবির কার্যক্রম, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা আমরা আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের এই সময়ে প্রকৌশলীদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই কাজের সঠিক চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার দায়িত্বও গণমাধ্যমের।
সভায় আইইবির কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান। তিনি দেশের প্রকৌশল খাতের কাঠামোগত সমস্যাগুলো তুলে ধরে বলেন, সরকারি খাতে নিয়োগ সীমিত থাকায় দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি প্রকৌশলী বেসরকারি খাতে কর্মরত।
কিন্তু এসব প্রকৌশলীর বড় একটি অংশ তুলনামূলকভাবে কম বেতন, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির মধ্যে কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিনা নোটিশে চাকরি হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে।
তিনি বলেন, “সরকারের অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে বেসরকারি প্রকৌশলীরাই কাজ করেন। অথচ তাদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট চাকরিবিধি নেই। এটি একটি বড় বৈষম্য।”
এই বাস্তবতায় বেসরকারি প্রকৌশলীদের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের চাকরিবিধি প্রণয়নের ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু প্রকৌশলীদের সুরক্ষার জন্য নয়, বরং সামগ্রিকভাবে উৎপাদনশীলতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মানোন্নয়নের জন্যও জরুরি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
ড. সাব্বির মোস্তফা খান আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই অপ্রযুক্তিগত পটভূমির ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি দাবি জানান, প্রকৌশল সংস্থাগুলোর চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্য প্রকৌশলীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত বা অতিরিক্ত দায়িত্বে রাখা প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে দ্রুত পদোন্নতি ও গ্রেড প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বিগত সময়ে নেওয়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইইবির পক্ষ থেকে একটি টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।