নিউইয়র্ক স্টেটে চলমান আবাসন সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের অগ্রগতির ঘোষণা দিয়েছেন গভর্নর হোচুল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২ হাজারেরও বেশি সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট নির্মাণ বা সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা তার পাঁচ বছর মেয়াদি হাউজিং পরিকল্পনার মধ্যে একক বছরে সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গভর্নরের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার প্রথম চার বছরে ইতোমধ্যেই ৮১ হাজারের বেশি সাশ্রয়ী আবাসন তৈরি বা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ১ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে নিউইয়র্ক। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে নিউ ইয়র্ক স্টেট হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল (এইচসিআর)। সংস্থাটি বেসরকারি খাত, স্থানীয় সরকার এবং বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাপক বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গভর্নর হোচুল বলেন, নিউইয়র্ক আবাসন সংকটের সরাসরি মোকাবিলা করছে, আরও বেশি বাড়ি নির্মাণ করে এবং দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে আমরা পরিবারগুলোর জন্য জীবনযাত্রা আরও সাশ্রয়ী করছি। এই রেকর্ড সাফল্য দেখাচ্ছে, সঠিক নীতি এবং শক্তিশালী বিনিয়োগ একসঙ্গে কাজ করলে কী সম্ভব। ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সাশ্রয়ী আবাসন খাতে রাজ্যজুড়ে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বহুতল আবাসন প্রকল্পে ৫.৩ বিলিয়ন ডলার, কমিউনিটি উন্নয়ন অনুদানে ১.১ বিলিয়ন ডলার এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য মর্টগেজ সহায়তায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আরও ২৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা হাজার হাজার নতুন সাশ্রয়ী বাড়ি নির্মাণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গভর্নরের আবাসন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে লেট দেম বিল্ড উদ্যোগ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের পরিবেশগত পর্যালোচনা আইন সহজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করা যায় এবং খরচ কমানো সম্ভব হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বিলম্ব উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে বাধাগ্রস্ত করে আসছিল, যা এই সংস্কারের মাধ্যমে কমানো সম্ভব হবে।
গভর্নর হোচুলের পাঁচ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের এই হাউজিং পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো সারা রাজ্যে ১ লাখ সাশ্রয়ী আবাসন তৈরি বা সংরক্ষণ করা। এর মধ্যে ১০ হাজার ইউনিট থাকবে বিশেষ সহায়তা-নির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য, যেমন: গৃহহীন, প্রবীণ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। পাশাপাশি ৫০ হাজার বাড়িকে বিদ্যুৎনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই উদ্যোগের আওতায় নতুন কিছু কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে, যা সাশ্রয়ী ও মিশ্র-আয়ের আবাসন উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রো হাউজিং কমিউনিটিজ প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে যোগ্য স্থানীয় সরকারগুলোকে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিশেষ তহবিলে প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই রাজ্যের ৪১০টিরও বেশি কমিউনিটি এই কর্মসূচির আওতায় স্বীকৃতি পেয়েছে।
নিউইয়র্কের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা, যেখানে বাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়লেও সরবরাহ সেই হারে বাড়েনি। ফলে ভাড়া বৃদ্ধি, গৃহহীনতা এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য বাসস্থান সংকট তীব্র হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গভর্নরের এই পরিকল্পনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, শুধু নতুন বাড়ি নির্মাণই যথেষ্ট নয়, একই সঙ্গে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, জমির সঠিক ব্যবহার এবং কমিউনিটির মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যদিকে, সরকার বলছে তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অনুসরণ করছে, যেখানে উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারএই দুটিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসন খাতে এই রেকর্ড অগ্রগতি রাজ্যের আবাসন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল বাসস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়।