সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এবং সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডের অফিসার সামনে ইসরায়েলে বোমা বিক্রি বন্ধের দাবিতে গত ১৩ এপ্রিল সোমবার নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এবং সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডের কাছে ইসরায়েলের কাছে বোমা বিক্রি বন্ধ করার জোর দাবি জানান। যুদ্ধবিরোধী সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর পিসের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভে কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন। তারা প্রথমে দুই সিনেটরের কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করেন। তবে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ভবনে ঢুকতে না দিলে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে যান এবং সড়ক অবরোধ করে মানুষের জন্য অর্থ দাও, বোমার জন্য নয় স্লোগান দিতে থাকেন। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে তাদের আটক করে এবং তিনটি বাসে করে নিয়ে যায়।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন হুইসেলব্লোয়ার চেলসি ম্যানিং, অভিনেত্রী ও মডেলহারি নেফ এবং নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিল সদস্য অ্যালেক্সা আভিলেস। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি একটি অহিংস নাগরিক অবাধ্যতা কর্মসূচি ছিল। বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স প্রস্তাবিত একাধিক রেজ্যুলেশন, যার লক্ষ্য ইসরায়েলের কাছে ৬০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের অস্ত্র বিশেষ করে বোমা বিক্রি ঠেকানো। এই প্রস্তাবগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানি নীতির আওতায় কংগ্রেসের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে। এর আগে একই ধরনের প্রস্তাব কংগ্রেসে পাস না হলেও সাম্প্রতিক প্রচেষ্টায় ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশের সমর্থন মিলেছে। তবে শুমার ও গিলিব্র্যান্ড এখনো প্রকাশ্যে এ উদ্যোগকে সমর্থন করেননি, যা বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, গাজা ও দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান এবং ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা মানবিক সংকটকে তীব্রতর করছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা এই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করছে। তারা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানান। সংগঠনের এক মুখপাত্র বলেন, এটি শুধু পররাষ্ট্রনীতি নয়, এটি মানবাধিকারের প্রশ্ন। নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিকই এখন এই যুদ্ধের অবসান চান।
এদিকে প্রস্তাবিত রেজ্যুলেশন নিয়ে সিনেটে এই সপ্তাহেই ভোট হতে পারে বলে জানা গেছে, যা মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি শুমার বা গিলিব্র্যান্ডের কার্যালয়। এ ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে বিভাজন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। একদিকে প্রগতিশীল অংশ অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে দলের নেতৃত্ব ঐতিহ্যগত মিত্র ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।