ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 15-04-2026

ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়া দুজন জন ইমিগ্রেশন বিচারককে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক বরখাস্ত করার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশন কোর্টের কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। ইউএস জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি ছয়জন ইমিগ্রেশন বিচারককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিচারক রূপাল প্যাটেল এবং নিনা ফ্রোস। এই দুই বিচারকই ফিলিস্তিনপন্থী দুই শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ক এবং মোহসেন মাহদাবি-এর ডিপোর্টেশন মামলা খারিজ করেছিলেন।

এই দুই শিক্ষার্থীকে গত বছর গাজা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে আদালতে বিচারকরা রায় দেন যে, সরকারের কাছে তাদের বহিষ্কারের জন্য যথেষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এক তুর্কি শিক্ষার্থীর ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া এক বিচারককে বরখাস্ত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিবাসন আদালতের স্বাধীনতা ও বিচারকদের ওপর রাজনৈতিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

অভিবাসন বিচারক রূপাল প্যাটেলকে গত ১০ এপ্রিল তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সময়ে আরেক বিচারক নিনা ফ্রোসকেও বরখাস্ত করা হয়, যিনি চেলমসফোর্ড অভিবাসন আদালতে কর্মরত ছিলেন। দুই বিচারকই সম্প্রতি এমন কিছু বহিষ্কার মামলা খারিজ করেছিলেন, যা ফেডারেল সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল তুরস্কের নাগরিক ও টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্কের মামলা।

ওজতুর্কের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছিল, তিনি ফিলিস্তিনপন্থী একটি মতামত নিবন্ধের সহ-লেখক ছিলেন, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে অভিবাসন আদালত জানায়, সরকার তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে চলমান বহিষ্কার কার্যক্রম বাতিল করা হয়।

ঘটনাটি তখন জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, বিশেষ করে যখন সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সাদা পোশাকের কর্মকর্তারা ম্যাসাচুসেটসের সোমারভিলে তার বাসার সামনে থেকে তাকে আটক করছে। পরে তাকে ভেরমন্ট হয়ে লুইজিয়ানার একটি ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ছয় সপ্তাহ আটক থাকার পর তিনি মুক্তি পান এবং পুনরায় ম্যাসাচুসেটসে ফিরে আসেন।

বিচারক প্যাটেল, যিনি ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত হন, বলেন তিনি মামলাটি নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করেছেন। তবে তার বরখাস্ত হওয়ার ঘটনায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। একইভাবে বিচারক নিনা ফ্রোস কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকর্মী মোহসেন মাহদাবির মামলাও খারিজ করেছিলেন। তাকেও আটক করা হয়েছিল এবং কয়েক সপ্তাহ পর মুক্তি দেওয়া হয়। তার ক্ষেত্রেও বহিষ্কার কার্যক্রম বাতিল হয়।এই সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন আপিল করেছে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অভিবাসন আদালতগুলো পরিচালনা করে, ফলে এই আদালতগুলো এক্সিকিউটিভ অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিচারকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক, এবং কেউ যদি পক্ষপাতিত্ব দেখান, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তবে ইমিগ্রেশন রাইটস অধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকলে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

প্যাটেল নিজেও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এটি এমন একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে বিচারকরা ভাবছেন, যদি তারা প্রশাসনের প্রত্যাশার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি থাকবে। এতে বিচারিক স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন আদালতে বিচারকদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়লে তা আইনের শাসন ও ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, মানবাধিকার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)