স্বাধীনতার মূল অঙ্গীকার ৫৫ বছরেও অর্জিত হয়নি


বিশেষ প্রতিনিধি , আপডেট করা হয়েছে : 15-04-2026

স্বাধীনতার মূল অঙ্গীকার ৫৫ বছরেও অর্জিত হয়নি

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় বক্তারা অভিযোগ করেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল অঙ্গীকার ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’ গত ৫৫ বছরেও অর্জিত হয়নি। এবার জুলাই সনদ নিয়েও একই রকম ষড়যন্ত্র চলছে । 

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দিবস (১০ই এপ্রিল) উপলক্ষে “স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র থেকে জুলাই সনদ: প্রতারণার ফাঁদে বাংলাদেশ” শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে এই আয়োজন করা হয়।

সভায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে লিখিত অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা গত ৫৫ বছরেও অর্জিত হয়নি। বরং ১৯৭২ সালের সংবিধানের চতুর ক্ষমতা কাঠামোর মাধ্যমে দেশে একটি নিকৃষ্ট স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি বর্তমান সংসদকে জনগণের দেওয়া গণভোটের আদেশ মেনে নিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগ ও রাজনৈতিক দলগুলোর ‘জুলাই সনদ’ একটি মাইলফলক।

হাসনাত কাইয়ূম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণ গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও নতুন সংসদ সেই আদেশ অগ্রাহ্য করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। বর্তমান সংসদে গণভোটকে বেআইনি করার যে কোনো অপচেষ্টা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। অবাধ নির্বাচন, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অর্থ পাচার ও দুর্নীতি রোধে সংবিধান সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।

তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “যাদের ভোটে আপনারা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছেন, সেই একই ভোটাররা গণভোটে আপনাদের সংস্কারের আদেশ দিয়েছে। এই আদেশ অগ্রাহ্য করলে জনপরিসরে সরকারের গ্রহণযোগ্যতায় ধস নামবে।” “অভ্যত্থান শেষ হয় নাই। সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যাত্রা শুরু না হওয়া পর্যন্ত অভ্যুত্থান শেষ হবে না। এখানে আরো সরকার পতন হতে পারে।”- তিনি যুক্ত করেন।

এবারের নির্বাচনকে অনেকে একটি মেটিকুলাসলি ডিজাইনড সমঝোতার নির্বাচন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাই শেষ নির্বাচন না। সরকারের সংস্কার বাস্তবায়নের গরিমসি চলতে থাকলে জনগণকে সাথে নিয়ে আবারো সরকার পতনের লড়াই শুরু করা হবে সতর্ক করে দেন তিনি।

সভায় কবি, গীতিকার ও এক্টিভিস্ট শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা এই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দিবস ৫৪ বছরেও সরকার ও রাষ্ট্র কখনো পালন করেনি। তিনি রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে এ আলোচনা সভার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী দিনে জাতীয়ভাবে দিবসটি পালনের আহ্বান জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার অভিযোগ করেন যে, ৭২-এর সংবিধানের ভেতরেই জনগণকে বিভক্ত করার বীজ বপন করা হয়েছিল। এই বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে দেশী-বিদেশী শাসক ও পাচারকারী চক্র লুটপাট, গুম ও দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে।

সভায় অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাকী বিল্লাহ, কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য, এনপিএ; জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য, সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, বাসদ (মার্কসবাদী); এডভোকেট আব্দুল আলীম, সদস্য সচিব, জেডিপি, মাহবুব আলম চৌধুরী প্রমুখ।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)