১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে এখন দেশ গঠনে মনোনিবেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার দল। এ ক্ষেত্রে প্রায় সবকিছুই তিনি গুছিয়ে এনেছেন। এমন মুহূর্তে বাদ পড়া এক ইস্যু, সেটা রাষ্ট্রপতি। বলার অপেক্ষা রাখে না এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক ইস্যু।
কিন্তু ওটাও তার পরিকল্পনায় আঁকা রয়েছে। কিন্তু বিএনপি যেমন এটা নিয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না, তেমনি বিরোধী দলের প্রত্যাশা থাকলেও এটা নিয়ে কিছুই বলার নেই। বিষয়টা নিতান্তই এখন বিএনপির ব্যাপার। আর বিএনপি এসব বড় সিদ্ধান্তগুলো নেয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যানের কোর্টে ফেলে রেখেছে। যদিও দলের চেয়ারম্যান একা কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। দলের শীর্ষপদের সবাইকে নিয়েই একটা সমীকরণ দাঁড় করিয়ে দেন। এরপর তিনি সেটা চূড়ান্ত করেন। সংসদ অধিবেশন বসার পর থেকেই এ ইস্যুতে সোচ্চার বিভিন্ন মহল। মিডিয়াও ছিল সরব। বেশ ক’জনের নাম আসে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো টু শব্দ নেই। ফলে ওইসব আলোচনা অনেকটাই সাইডে চলে গেছে। তবে ঈদের পর আবারও এ আলোচনা সম্মুখে চলে আসতে পারে বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতির ইস্যুতে দুইটা নীতিগত মত বিদ্যমান। প্রথমটি, আপাতত বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে আরো কিছুদিন- আরো এক বছর রেখে দিতে পারে বিএনপি। সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির আন্তরিকতা ও তার কিছু কথাবার্তা এটাই প্রমাণ করছে। শেখ হাসিনা কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত চুপ্পু হাসিনা দেশকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে গেছেনসহ অনেক অপবাদ দিয়েছেন। এটা বিএনপির জন্য ভাল খবর। চুপ্পু চাচ্ছেন সেইফ এক্সিট। এ জন্য তাকে যা বলার সেটা তিনি বলবেন এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি হয়তো এ সুযোগটা আরো কিছুদিন নিতে চাইবেন। খোদ আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতি যদি স্ববিরোধী কথা বলেন, এটা ভবিষ্যতে রেফারেন্সযোগ্য রাজনীতির মাঠে। সেটা যে যেভাবেই বলুকনা কেন। অন্য মত, বিএনপি মাত্র সরকার গঠন করলো। এক্ষুনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করলে সংসদ ও রাষ্ট্রপতির মেয়াদ একই সমান হয়ে যায়। ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে সে সরকারের উপর রাষ্ট্রপতির যে একটা প্রভাব থাকবে, সেটা হ্রাস পেতে পারে। বিএনপি যদি আরো ৬ মাস, বা এক বছর দেরি করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে তাহলে গোটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়টাতে ওই রাষ্ট্রপতি বহাল থাকলে কিছুটা হলেও সুফল পাওয়া যেতে পারে। ক্ষমতাসীন দল এমন সুবিধাটুকু নেবে সেটা গলা ফাটিয়ে বিরোধীরা যাই বলুক না কেন। সংসদে বিরোধী পক্ষ ইতিমধ্যে এমন একটা ধারণা আঁচ করতে পেরেছেন বটে। এ জন্য সংসদ শুরুর পর থেকে বেশ প্রতিবাদও তারা করেছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর অপসারণের জন্য। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণও তারা শোনেনি। ওয়াক আউট করেছে এনসিপি ও জামায়াতের সাংসদরা। অথচ পেছনের দিকে তাকালে এ রাষ্ট্রপতিকে বহাল রেখেই গোটা অন্তর্বর্তী সরকার পার করেছেন তারা। এমনকি এনসিপির যেসব নেতৃত্ব এখন সংসদে রয়েছেন তাদের যারা উপদেষ্টা পদে ছিলেন তারাও সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কাছে শপথবাক্য পাঠ করেছিলেন। প্রায় দেড় বছরের ওই সময় ওই রাষ্ট্রপতির বিপক্ষে টু শব্দ তো তারা করেইনি, বরং রাষ্ট্রপতিকে সরানোর যে কঠোর আন্দোলন হয়েছিল কতিপয় সমন্বয়কের নেতৃত্বে। তাদের সে আন্দোলনে সায় দেয়নি এনসিপির ওইসকল নেতৃত্ব। জামায়াতের ইস্যুটাও এমনই। জামায়াতও রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেয়ার জন্য জোরালো কোনো ভূমিকা রাখেনি অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের কাছে। অথচ বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজন মনে করলেই প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দরবারে যেয়ে হাজির হতেন। হাস্যজ্জ্ব্যেলমুখে আলোচনা, দাবি- দাওয়া পেশ করে আসতেন। বিএনপি বর্তমানে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ইস্যুটা একরকম উপভোগও করছে। কেননা বিএনপি এর আগে কখনই রাষ্ট্রের সর্বশেষ সাংবিধানিক পদে থাকা রাষ্ট্রপতিকে পরিবর্তনের কথা বলেনি। বরং সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করারই পক্ষে মত দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তা করেছেন। যেহেতু এবার তারা ক্ষমতায় তাই এ ব্যাপারে তাদের পথচলা কিছুটা ধীরগতি হবে বলেই মনে হচ্ছে।
বিএনপির সম্ভব্য রাষ্ট্রপতি হওয়ার তালিকায় ৩/৪ জনের নাম শোনা গেছে। এদের মধ্যে খন্দকার ড. মোশারফ হোসেন। এ ছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম, ড. আব্দুল মঈন খান প্রমুখ রয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রী সভাতে নতুন মুখ ভিড়িয়েছেন। ফলে এখানে এর বাইরে কাউকে নিয়ে এলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।