বাংলাদেশ ক্রিকেট ঘিরে সংকট ঘনীভূত


সালেক সুফী , আপডেট করা হয়েছে : 25-03-2026

বাংলাদেশ ক্রিকেট ঘিরে সংকট ঘনীভূত

বিএনপি জোট সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় আসার পর অনেকের প্রত্যাশা ছিল সমাজ জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়াঙ্গনেও স্বস্তি আসবে। বিশেষ করে বিতর্ক আর স্থবিরতায় নিপতিত ক্রিকেটের আকাশে ঘনীভূত মেঘ কেটে সুবাতাস বইতে শুরু করবে। সরকারের সবে মাত্র এক মাস সময় শেষ হয়েছে। নতুন করে সরকারে আসা বিএনপির মন্ত্রী সাংসদরা হয়তো এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির প্রকৃত মূল্যায়ন করে করণীয় বিষয়সমূহ নিয়ে লাগসই পরিকল্পনা সাজাতে পারেনি। তবু ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন কীর্তিমান অধিনায়ক ক্রিকেটকেই নিয়ে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে কিছু মন্তব্য করে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সবাই জানে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত এবং ক্রিকেট পরিচালনায় বিসিবির নির্বাচন এবং কার্যক্রমে অনাহূত হস্তক্ষেপের কারণে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের ভারত বিরোধিতা এবং বিসিবির ক্রিকেট দ্যূতিয়ালির ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি। নিঃসন্দেহে বিষয়টি দুঃখজনক। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলকে দারুণভাবে আহত আর বঞ্চিত করেছে। কিন্তু বিষয়টি মীমাংসিত অতীত। সবাই জানে কেন কাদের নির্দেশে আজ্ঞাবহ বিসিবি বিশ্বকাপ বয়কটের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে আইসিসি কিছু প্রচেষ্টার পর বাংলাদেশের স্থানে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেয়। বিশ্বকাপ কিন্তু কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যত্যয় ছাড়াই শেষ হয়। বিদায় নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি জোট আসীন হয় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। অন্তর্বর্তী সরকার সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে বিসিবির বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবর্তিত এবং পুনর্বিন্যস্ত বিসিবি গঠন করে। নানা কারণে নির্বাচন নিয়ে বিসিবির সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোর দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে স্থানীয় ক্রিকেট স্থবির হয়ে পড়ে।

এতো গেল বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ। উপরোল্লিখিত কারণে বাংলাদেশের স্থানীয় ক্রিকেট স্থবির থাকা ক্রিকেট অঙ্গনে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। বিসিবি সভাপতি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে। নতুন সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর বিসিবি সভাপতির সঙ্গে নতুন ক্রীড়া মন্ত্রীর সরাসরি দেখা হয় নি। বিসিবির নির্বাচন এবং পরিচালনা নিয়ে বিক্ষুব্ধ একটি মহল সরকারের কাছে বিসিবির বিষয়াদি অনুসন্ধানপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। নতুন সরকার অবশ্যই পূর্ববর্তী সরকার আমলে সম্পাদিত বিভিন্ন বিষয় কার্যক্রম খতিয়ে দেখতেই পারে। কিন্তু সবচেয়ে ভালো হয় যদি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে পরিস্থিতি অনুধাবন করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। সরকার চাইলেই কিন্তু বিসিবি বা বিএফএফের কার্ক্রমে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। আবার একই সঙ্গে বিসিবি বা বিএফএফ সরকারের পলিসি বা কার্যক্রমের পরিপন্থি কিছু করতেও পারে না।

দেখলাম ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জাতীয় ক্রীড়া কাউন্সিল একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপ বর্জন বিষয়টির কারণ অনুসন্ধানের জন্য। বিষয়টি সবার জানা। নতুন করে বিষয়টি জানতে বর্তমান সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিসিবির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতেই পারে। দেখলাম কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর বিসিবি তড়িঘড়ি করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। জানিয়েছে আইসিসি হয়তো বিষয়টিকে বিসিবির কার্যক্রমে সরকারের হস্তক্ষেপ বিবেচনা করে বিসিবির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার বারবার বিসিবির কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেও এড়িয়ে গেছে। যাই হোক, নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার সুযোগ থাকলেও কেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-বিসিবি পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছে? দেশের স্থানীয় ক্রিকেট যখন স্থবির হয়ে আছে তখন কেন সংশ্লিষ্ট মহলের টনক নড়ছে না? ক্রিকেট সমাজ জানে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থানের জন্য কার কি অবদান? কোন অশুভ মহলের প্ররোচনায় বর্তমান অচল অবস্থা এটিও সবার জানা।

আমি ক্রিকেটের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব মহলকে সংযত থেকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন করার জন্য অনুরোধ করছি।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)