শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শুভ পথচলা


সালেক সুফী , আপডেট করা হয়েছে : 18-03-2026

শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শুভ পথচলা

স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, শোক প্রস্তাব গ্রহণ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিসহ বিশিষ্ট জনদের জন্য শোক প্রস্তাব পাস এবং সর্বোপরি সংসদীয় রীতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ভাষণ ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে গত ১২ মার্চ ২০২৬ শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ সংসদের পথচলা। ৭১ রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, তুখোড় ফুটবল খেলোয়াড়, অ্যাথলেট মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন স্পিকার, সরকারি দল বিএনপি বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ প্রদানের প্রস্তাব দিলেও সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামী জোট রাজি না হওয়ায় বিএনপির সংসদ সদস্য আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নির্বাচিত হয়েছেন ডেপুটি স্পিকার। স্পিকার আর ডেপুটি স্পিকারদের প্রথা অনুযায়ী শপথ গ্রহণ করিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।

স্মরণীয় যে ৫ আগস্ট ২০২৪ সরকার পতনের পর থেকে প্রাক্তন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কোথায় আছেন কেউ জানে না। ডেপুটি স্পিকার কারাগারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকারের আসন খালি রেখে অধিবেশনের সূচনা হলে প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক জিয়ার প্রস্তাবে অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তার সভাপতিত্বে অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যের প্রস্তাবে এবং কণ্ঠভোটে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়। কিছুক্ষণ বিরতির পর স্পিকারের সভাপতিত্বে শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। দেশে বিদেশে মৃত্যুবরণকারী বিশিষ্টজনদের বিষয়ে শোকপ্রস্তাব উত্থাপনের পর প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতিশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। বিরোধী দলীয় নেতা এবং কয়েকজন সম্মানিত সাংসদ জামায়াতে ইসলামের কয়েকজন মরহুম নেতা, উসমান হাদি, আবরার ফারহাদের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করলে স্পিকারের সম্মতিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। 

এরপর আইন এবং সংসদ বিষয়কমন্ত্রী সংসদে আলোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অর্ডিন্যান্স পেশ করেন। ওইদিন অধিবেশনের শেষ কার্যক্রম ছিল সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদীয় রীতি অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ।

স্পিকার ঘোষণা করার সঙ্গে তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন একযোগে বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্য। সবার হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। স্পিকার সবাইকে শান্ত হয়ে বসার অনুরোধ জানালেও কেউ কারো কথা শোনেনি। রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আগমনী বার্তা ঘোষিত হলেও বিরোধীদলীয় সাংসদরা রাষ্ট্রপতিকে স্বৈরশাসকদের দোসর বিবেচনা করে প্রতিবাদ করতে থাকেন। এমনকি এ সময়ে বাজতে থাকা জাতীয় সংগীতের প্রতি দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাতেও ভুলে যান। একপর্যায়ে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্য।

রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রদান করেন। সে ভাষণের অনেক প্রসঙ্গ নিয়ে নানা পর্যায়ে দীর্ঘদিন আলোচনা বিতর্ক হবে। স্মরণীয় যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আওয়ামী সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি তৎকালীন সরকারকে স্বৈরাচারী সরকার অবহিত করেছেন নির্দ্বিধায়। তিনি ভাষণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেছেন। ১৯৯৬-২০০১ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারকে দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন অবহিত করেছেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে সংসদে আলোচনা সমালোচনা হবে। সংসদের বাইরেও মিডিয়ায় অবশ্যই চুলচেরা আলোচনা হবে। একজন মুক্তিযোদ্ধা, দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রাক্তন কর্মকর্তা এবং আওয়ামী সরকার আমলে দায়িত্ব পালনকারী প্রেসিডেন্ট হিসাবে কাজ করা কারো পক্ষে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান আমাদের কাছে রাজসাক্ষীর বয়ানের মতো মনে হয়েছে।

দৃষ্টিকটু লেগেছে বিরোধী দলের প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসে সংসদে প্রতিবাদ জানানো। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ওয়াকআউট করতেই পারে বিরোধী দল। তারা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়েছেন। তখন কিন্তু তারা কেউ প্রতিবাদ করেননি। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথে এনসিপির একাধিক নেতা এ রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। এক সময় রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করতে বঙ্গভবনের সামনে ব্যাপক আন্দোলন চলছিল। কথিত আছে সে আন্দোলন থামাতে এনসিপির অনেক নেতৃবৃন্দ পেছন থেকে ভূমিকা রেখেছেন। কারণ সে সময় সমন্বয়করা ছিলেন ব্যাপক পাওয়ারফুল। ফলে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হান্নান মাসউদসহ ফ্রন্টলাইনের নেতৃবৃন্দ দৃঢ়তা দেখিয়ে ওই আন্দোলন চালালে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতেই হতো। কিন্তু ওই অন্দোলন হালে পানি পায়নি, যার অর্থ এসব ফ্রন্টলাইনারদের সমর্থন ছিল না। অর্থাৎ মো. সাহাবুদ্দিনকে সাংবিধানিক শেষ পদটি বজায় রাখতে বহাল রাখার পক্ষপাতি ছিলেন তারাও। ফলে এ মুহূর্তে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে অনেকেই এসব নেতাদের আচরণকে দ্বিচারিতা বলতে শুরু করেন। 

শেষকথা হলো, অনেক অপেক্ষার পর সূচনা হলো সংসদের পথচলা। নতুন স্পিকার আর ডেপুটি স্পিকারকে আন্তরিক অভিনন্দন।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)