মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটে ভয়ার্ত দৃষ্টি বাংলাদেশের


মাসউদুর রহমান , আপডেট করা হয়েছে : 04-03-2026

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটে ভয়ার্ত দৃষ্টি বাংলাদেশের

সদ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক নির্দেশনা জারি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ১৪ দেশের নাগরিকদের সে দেশ দ্রুত ত্যাগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন নির্দেশনার বিভিন্ন রহস্য থাকলেও এর অন্যতম একটি হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে। কেননা ইরান শুধু মার্কিন ঘাটিতেই নয় হামলা চালাচ্ছে মার্কিন দূতাবাসগুলোতেও। 

মধ্যপ্রাচ্যের এমন যুদ্ধাবস্থা অন্য কোন দেশের কী হলো না হলো, তার চেয়েও ভয়াবহ হলো বাংলাদেশের বড় ক্ষতির কারণ। সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ (৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স এসেছে। আর এ রেমিট্যান্সের বড় উৎস ওই মধ্যপ্রাচ্য। এর বাইরে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াও আছে। কিন্তু সেটা অনেক কম। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যে যুদ্ধের দাবানল ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে, এর প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতে এসে আঘাত করবে। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাওয়া গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশে কাজ কর্ম তো দূরে থাক, বাংলাদেশীরা জীবন বাঁচাতে আল্লাহর সাহায্য কামনা করছেন। ও সুরক্ষিত স্থানে অবস্থান করছেন। প্রবাসীরা সে সমস্ত স্থানে কাজ করছেন, সেমস্ত প্রতিষ্ঠানের অনেকেই জীবনের মায়ায় সব ছেড়ে সুরক্ষিত স্থানে চলে গেছেন। এতে করে শঙ্কা বিরাজ করছে প্রবাসীদের মাঝেও। প্রতিষ্ঠান টিকলে চাকরি টিকবে। বেতন পাওয়া যাবে। অন্যথা সবকিছুতে স্বপ্নভংগ। ফলে আসন্ন ঈদে যে বড় একটা রেমিটেন্স আসার সম্ভাবনা ছিল প্রতি বছরের ন্যায়, সেটাতেও কিছুটা আঘাত লাগতে পারে।

আমদানি-রপ্তানি 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশের বাড়ছে আমদানি-রপ্তানি খরচ। এতে করে প্রচন্ড চাপে রয়েছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রভাবে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। ইরান এক রেডিও বার্তায় ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ব্যতিক্রম ঘটলে আগুনে পুড়ে দেয়ার হুমকি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিকল্প রুটে পণ্য পরিবহনে বাড়তি চার্জ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো। বাড়ছে কন্টেইনার ভাড়া ও সময়, চাপে পড়ছেন বাংলাদেশি আমদানি-রপ্তানিকারকেরা। এরইমধ্যে পণ্য পরিবহনে সতর্কতা জারির পাশাপাশি বিকল্প পথে পণ্য পরিবহনে বাড়তি চার্জ নেওয়া শুরু করেছে বিদেশি জাহাজ কোম্পানিগুলো। ফলে পণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে দেশীয় ব্যবসায়ীদের।

দেশের ৬৩ শতাংশ রপ্তানি পণ্যের গন্তব্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও আমেরিকা। আর ওইসব দেশ থেকে আসে আমদানি পণ্যের আট শতাংশ। সমুদ্রপথে পণ্য পৌঁছানোর সহজ রাস্তা সুয়েজখাল ও লোহিত সাগর। হুতিদের কারণে দুই বছর ধরে লোহিত সাগর বন্ধ। তাই ঘুরপথে পণ্য পাঠাতে অতিরিক্ত খরচ ও সময় লাগছে। এমতাবস্থায় জরুরি যেসব শিপমেন্ট, সেগুলো এয়ারেও পাঠানো যাচ্ছে না। কারণ মঙ্গলবার পর্যন্ত গত ৫ দিনে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১৪৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) পর্যন্ত ১০৯টি এবং মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তালিকায় থাকা ২২টিসহ চারদিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১৩১টি ফ্লাইটসহ সর্বশেষ পাঁচ দিনে মোট ১৪৮ ফ্লাইট বাতিল হওয়ার খবর মিলেছে। এ সংখ্যা বাড়ছে ক্রমশ। ফলে এমন পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে এবং কার্গোতে মাল শিপমেন্ট স্বাভাবিক হবে সেটা আজানা। 

ইরানের উপর ব্যাপক হামলা হওয়ার পর থেকে ইরান এখন পাল্ট আক্রমণ করছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব ঘাটিতে। বাইরে ইসরায়েল তো রয়েছেই। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ লোকজন যেসব স্থানে চলাচল বা অবস্থান করছে সে টার্গেটেও হচ্ছে ইরানি মিসাইল হামলা। সব মিলিয়ে এ সেক্টরে দুশ্চিন্তা ক্রমশ বাড়ছে। 

বাড়ছে জ্বালানি সঙ্কট 

হামলার শিকার ইরান হরমুজ প্রণালীও বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী অব্যাহতভাবে বাড়ছে তেলের দাম। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক ‌‘কাতার এনার্জি’ তাদের স্থাপনাগুলোতে ‘সামরিক হামলার’ পর উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় গত সোমবার (২ মার্চ) প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়ে গেছে। সৌদী সর্ববৃহৎ তেল শোধনাগারেও হামলা হয়েছে। এ হামলা কে করেছে এ নিয়ে বিতর্ক আছে। 

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটি পুড়িয়ে দেবে।

আইআরজিসির নতুন প্রধান আহমদ ভাহিদির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি সোমবার (২ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, প্রণালিটি এখন থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। কোনো জাহাজ এটি পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিপ্লবী গার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা সেটি পুড়িয়ে দেবে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করেছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। 

আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে জাব্বারি আরও জানান, তারা তেলের পাইপলাইনগুলোতেও হামলা চালাবেন এবং এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবেন না। 

জাব্বারির দাবি, এই উত্তেজনার ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি ডলারের ঋণে জর্জরিত মার্কিনিরা এই অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু তারা জেনে রাখুক, এক ফোঁটা তেলও তাদের কাছে পৌঁছাবে না। 

এটা না হয় ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিসেব। কিন্তু এর প্রভাব তো দুর্বল অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর দাড়ানো বাংলাদেশের উপরও পড়বে। 

এলএনজি সরবরাহ হুমকিতে 

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক যে জ্বালানি অস্থিরতা তার রেশ ধরে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন ব্যাহত হলে বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এতে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতেও চাপ বাড়বে।

পরিশোধিত জ্বালানি তেল এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসায় এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির নির্ভরতা কম। ফলে আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে আপাতত কোনো সংকট দেখছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেল সরবরাহে ঝুঁকি দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। 

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। এর সঙ্গে আমদানি করা এলএনজি থেকে যুক্ত হচ্ছে আরো ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে মোট সরবরাহের বড় অংশই এখন আমদানিনির্ভর। উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে জিটুজি ভিত্তিতে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। যা আসে ওই হরমুজ প্রনালী দিয়েই। 

পরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ওমান থেকেও আমদানি শুরু হয়। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টনই আসে কাতার থেকে।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, চলতি মাসে অন্তত ৯টি এলএনজি কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ১৫ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে ১-২টি কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যেসব কার্গো ১৫ তারিখের মধ্যে আসার কথা, সেগুলো এরই মধ্যে প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কিছুটা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে শিল্প খাতে গ্যাস-সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, আবাসিক এবং পরিবহনসহ প্রায় সব খাতেই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, সিরামিক ও স্টিলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পে কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে যদি এলএনজি আমদানি ব্যাহত হয়, তাহলে শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সব ক্ষেত্রেই গ্যাস সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। গ্রীষ্মকাল সামনে রেখে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে লোডশেডিং বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং শিল্প খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দুই সপ্তাহের বেশি দীর্ঘ হলে গ্যাস, এলপিজি, কয়লা ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এতে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন চাপ পড়বে।

সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি আরো কয়েক দিন পর্যবেক্ষণ করব। এ ধরনের সংকট অতীতেও তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।’ বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং জ্বালানি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ এই তিনটি বড় ঝুঁকি সামনে আসতে পারে।

সবশেষ

তেল গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মানেই এর প্রভাব সরাসরি এসে পরে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে। করোনায় দ্রব্যমূল্যের বাজার উর্ধ্বমূখী হয়। সে প্রভাব এখনও কাটেনি। স্বল্প আয়ের মানুষ এখনও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে হিমশিম খাচ্ছে। বহু মানুষ চাকরি খুইয়েছেন। ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরা পুঁজি ভেঙে খেলে ব্যবসা হারিয়েছেন করোনাকালীন সময়ে। সে থেকে মানুষ ধীরে ধীরে নিজস্ব ট্রাকে ফিরতে শুরু করছে বহু চড়াই উৎরাই পার হয়ে। 

এরই মধ্যে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন। সেটা নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় বসতে না বসতে এখন মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধ। এ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার যথেষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কারণ ইরানের আয়াতুল্লাহ খামেনি এখন ধর্মীয় নেতাও। অনেকেই তার হত্যাকান্ড স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছে না। এর সংখ্যা ইরানের বিপ্লবী গার্ডের মধ্যেও রয়েছে। একইভাবে ইসরায়েলে কঠিনতর হামলা হচ্ছে। সেখানেও একটা খবর চাউর হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেটা নেতানিয়াহু কী বেঁচে আছেন সে বিষয়টি। ইরানের দাবি নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে আকস্মিক হামলা চালানো হয়েছে। এরপর থেকেই নেতানিয়াহু’র অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু। যদিও ইসরায়েল সরাসরি এ ব্যাপারে কিছুই জানায়নি, বা মনেও করেনি হয়তো। তবে যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে সেটাও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি ও তাদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দূতাবাসেও চালানো হচ্ছে হামলা। ফলে বিষয়টা একেবারে সহজে নিচ্ছেনা মার্কিনীরাও। কারণ ট্রাম্প এ যুদ্ধে হেরে যাওয়া মানে তার জন্যও বিশাল বড় ইস্যু। ছাড়ছে না ইরানও। মরণকামড় দিচ্ছে তারা। 

বাংলাদেশের কম ও মধ্যম আয়ের মানুষের এমনিতেই হতাশাজনক অবস্থায়। এরপর তেল গ্যাসের গ্যাড়াকলে পরে, সাথে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে গেলে পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্বদির আরেকবার ঊর্ধ্বগতিমুখী হলে দুর্ভোগ তৈরি হবে এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)