১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিলেন মাসফিকুল


বিশেষ প্রতিনিধি , আপডেট করা হয়েছে : 25-02-2026

১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিলেন মাসফিকুল

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, নদীর উপর মানুষের অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকা ভীষণভাবে নির্ভর করে, তাই আমরা চাই সরকার নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ করুক, জীবাশ্ম জ্বালানির বিস্তার বন্ধ করুক। নদীর অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত ‘নদীতে প্রাণের কান্না: বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও’ শীর্ষক ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বক্তব্য উঠে আসে। 

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে পরিবেশবাদী নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ এবং ‘বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (BMTC)’ যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযাত্রী মাসফিকুল হাসান টনি কুড়িগ্রামের রৌমারির ইটালুকান্দার ডিগ্রীর চর থেকে ভোলার চর কুকরি-মুকরি পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা দিয়ে বলেন, “নদীর এই পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রাস্তা খুজে বের করা। নদীর পাড় ধরে হাঁটতে গিয়ে নদীর পাড়ের মানুষের যেমন বৈচিত্রতা দেখেছি তেমন নদী ভাঙন, দূষণ এবং চরের ভয়াবহতা দেখে আতকে উঠেছি”।

সভাপতির বক্তব্যে ‘ধরা’র সহ-আহ্বায়ক এম. এস সিদ্দিকী বলেন, “টনিকে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি তাঁর অসাধারন কাজের জন্য। তাঁর দেখা নদীর পাড়ের মানুষের সরলতা, নদী ভাঙনের চিত্র বা নদীর দূরবস্তার কথা আমরাও যেন জানতে পারি। তাই সে যদি বই আকারে প্রকাশ করতে পারে তবে আমরা সকলেই সমৃদ্ধ হব। টনির এই অভিযানের সাথে আমরা থাকতে পেরে গর্বিত।”

ধরা’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, “এবার রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনি ইশতেহারে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে। নতুন নির্বাচিত সরকারও পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমরা মনে করি নদী-খাল পুনরুদ্ধার বা পুনঃখননের আগে চলমান দখল ও দূষণ বন্ধ করা জরুরি। গাছ লাগানোর গুরুত্ব রয়েছে কিন্তু তাঁর আগে গাছ কাটা ও বনাঞ্চল ধ্বংস বন্ধ করা উচিত। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, নদীর উপর মানুষের অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকা ভীষণভাবে নির্ভর করে, নদী ধ্বংশ হলে বিপর্যস্ত হয় সংশ্লিষ্ট জনপদ। তাই আমরা চাই সরকার নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ করুক, জীবাশ্ম জ্বালানির বিস্তার বন্ধ করুক”।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত অভিযাত্রী ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (BMTC)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক, এভারেস্টজয়ী ইকরামুল হাসান শাকিল, Peak 69-এর স্বত্বাধিকারী হানিয়াম মারিয়া রাকা, এবং চুনতি রক্ষায় আমরা এর সমন্বয়ক সানজিদা রহমান প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সদস্য ও রিভার বাংলা’র সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ।

বক্তারা সম্মিলিতভাবে নদী রক্ষায় তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং আগামীতে এই ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)