নিউইয়র্ক সিটির বাজেট ঘাটতি ১২.৬ বিলিয়ন ডলার : বাস্তব সংকট নাকি রাজনৈতিক কৌশল?


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 04-02-2026

নিউইয়র্ক সিটির বাজেট ঘাটতি ১২.৬ বিলিয়ন ডলার : বাস্তব সংকট নাকি রাজনৈতিক কৌশল?

নিউইয়র্ক সিটি এক বড় ধরনের বাজেট সংকটের মুখে, এমনটাই দাবি করেছেন সদ্য দায়িত্ব নেওয়া সিটি কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন। তার হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে শহরের মাঝামাঝি সময়ের ঘাটতি ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য ঘাটতি ১০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে মোট ঘাটতির অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। মেয়র জোহরান মামদানি এই হিসাবকে সমর্থন করে ২৮ জানুয়ারি এক গম্ভীর বাজেট ভাষণে বলেন, এ সংকটের প্রধান স্থপতি সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস। মামদানির বক্তব্য অনুযায়ী, আগের প্রশাসনের ভুল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং এককালীন হিসাবনিকাশের কৌশল ভবিষ্যতের ওপর বড় বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। তবে সব মহল এই ভয়াবহ চিত্রের সঙ্গে একমত নয়। সিটিজেন্স বাজেট কমিশন আগামী অর্থবছরের ঘাটতি সর্বোচ্চ ৮ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছে। স্বাধীন বাজেট দফতর (আইবিও) চলতি বছরে ৩৮০ মিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছরে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছে। এমনকি সিটি কাউন্সিলের ফাইন্যান্স চেয়ার জাস্টিন ব্র্যানান এর আগে বলেছিলেন, ভবিষ্যতের ঘাটতি ব্যবস্থাপনাযোগ্য।

এই ভিন্ন ভিন্ন হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, লেভিন জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সত্যিই ব্যতিক্রমী। তার ভাষায়, আগের প্রশাসন বহু খাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কম বাজেট বরাদ্দ করেছে, বিশেষ করে সিটিফেপস ভাড়া সহায়তা কর্মসূচিতে। যেখানে চলতি বছরে প্রকৃত ব্যয় ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, সেখানে বাজেটে ধরা হয়েছিল মাত্র ৬০০ মিলিয়ন ডলার। আগামী বছর এই খাতে ব্যয় ৩.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি জানান। লেভিন আরো বলেন, এই হিসাবেও সম্ভাব্য মন্দা, এআই খাতের ধস, শ্রম চুক্তি পুনরায় আলোচনার খরচ কিংবা আদালতে আটকে থাকা সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যয় ধরা হয়নি। অর্থাৎ প্রকৃত চাপ আরো বাড়তে পারে।

এদিকে গভর্নর ক্যাথি হোচুল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, হালনাগাদ রাজস্ব পূর্বাভাসে ঘাটতি কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে লেভিনের মতে, রাজস্ব বাড়লেও তা শত মিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, বিলিয়নের নয়।এই উচ্চ ঘাটতির হিসাব মেয়র মামদানির রাজনৈতিক এজেন্ডার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর দাবিকে জোরালো করতে এবং প্রথম বছরে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার ব্যাখ্যা দিতে এই বড় অঙ্কের ঘাটতি সহায়ক হতে পারে।

বাজেট সংকটের মধ্যেও বিনামূল্যে শিশু পরিচর্যা, ফ্রি বাস সার্ভিসসহ সামাজিক কর্মসূচি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করেন লেভিন। তবে তিনি স্বীকার করেন, সবকিছুই এখন আলোচনার টেবিলে আছে, এবং খরচ কমানোর জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির সামনে তাই এখন বড় প্রশ্ন,এই ঘাটতি কতটা বাস্তব, আর কতটা রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার, উত্তর মিলবে আসন্ন বাজেট আলোচনাতেই।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)