উবার ও লিফট চালকদের অধিকার রক্ষায় ডিঅ্যাকটিভেশন বিল পাস


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 04-02-2026

উবার ও লিফট চালকদের অধিকার রক্ষায় ডিঅ্যাকটিভেশন বিল পাস

নিউইয়র্ক সিটিতে রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি অ্যাপভিত্তিক চালকদের চাকরির নিরাপত্তা জোরদার করতে ‘অন্যায্য ডিঅ্যাকটিভেশন’ বা কারণ ছাড়া অ্যাপ থেকে বাদ দেওয়া নিষিদ্ধের বিলটি নতুন করে আবারও পাস করেছে সিটি কাউন্সিল। সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস দায়িত্বের শেষদিকে বিলটিতে ভেটো দিলেও নতুন অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সেটি আবারও উত্থাপন করেছেন সিটি কাউন্সিল মেম্বার শেকার কৃষ্ণান এবং শাহানা হানিফ, সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিনসহ অন্যরা। কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিনের সহায়তায় তার উক্ত বিলটি পুনরায় সিটি কাউন্সিলে তোলেন বৃহস্পতিবার। অবশেষে ভেটো প্রম্নফ মেজোরিটি ভোটে ইন্ট্রো ২৭৬ বিলটি পাস হয় ওইদিন বিকালে। ওই বিলে বলা হয়, উবার ও লিফট কতৃর্পক্ষ কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই কোনো ড্রাইভারকে চাকরিচ্যুত করতে পারবে না। বরং তাদের অ্যাপ ডি-অ্যাকটিভেট করার আগে ১৪ দিনের নোটিশ দিতে হবে। ড্রাইভাররা উবার ও লিফট কোম্পানির নোটিশের বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে আপিল করার সুযোগ পাবে, কোর্টে যেতে পারবে, সিটির সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সহায়তা নিতে পারবে।

প্রয়োজনে তারা ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশনে অভিযোগ জানাতে পারবেন, যা তদন্তের পর চালককে পুনর্বহাল করতে পারে। আইনটি কোম্পানির ওপর প্রমাণের দায়িত্ব আরোপ করছে, অর্থাৎ অন্যায্য ডিএ্যাকটিভেশন হওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিকেই দেখাতে হবে সিদ্ধান্ত ন্যায্য ছিল। বিলটি নিউইয়র্ক সিটির ১ লাখের বেশি রাইডশেয়ার চালককে সুরক্ষা দেবে এবং তাদের আয়ের হঠাৎ ক্ষতি ও অপ্রত্যাশিত চাকরি হারানোর ঝুঁকি কমাবে। পাশাপাশি, বিলটি একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে, যা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে।

কুইন্সের সিটি কাউন্সিল সদস্য শেখর কৃষ্ণনের নেতৃত্বে গত ২৯ জানুয়ারি উবার ও লিফট চালকদের নিয়ে সিটি হলে সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। কৃষ্ণনই ইনট্রো ০২৭৬ নম্বরের বিলটির প্রধান স্পনসর। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সিটি কাউন্সিল ৪০-৭ ভোটে বিলটি পাস করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল উচ্চসংখ্যক রাইডশেয়ার চালকদের ‘অন্যায্য ডিঅ্যাকটিভেশন’ থেকে সুরক্ষা দেওয়া। একই দিনে ডেলিভারি কর্মীদের সুরক্ষার জন্য ‘ইনট্রো ১৩৩২’ বিলটিও ৪০-৮ ভোটে অনুমোদিত হয়। তবে মেয়র অ্যাডামস তার শেষ কর্মদিবসে ইনট্রো ০২৭৬-এ ভেটো দেন, যদিও ডেলিভারি কর্মীদের বিলটিতে ভেটো দেননি। কাউন্সিল সদস্য শেখর কৃষ্ণনের মতে, এতে নিউইয়র্ক সিটির ১ লাখের বেশি রাইডশেয়ার চালক সরাসরি উপকৃত হবেন।

কুইন্সের সিটি কাউন্সিল সদস্য শেখরকৃষ্ণন বলেন, আগের মেয়র আমাদের বিলটিতে ভেটো দিয়েছিলেন, যদিও এটি বিপুল ভোটে পাস হয়েছিল। কিন্তু এখন নতুন দিন এসেছে। এই কাউন্সিল শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষায় আরো বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, নতুন প্রশাসনও চালকদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মেয়র কার্যালয়ের মুখপাত্র স্যাম রাসকিন বলেন, কোনো কর্মী যেন অ্যালগরিদমের একটি ক্লিকে, কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিকার ছাড়াই জীবিকা হারাতে না হয়।এ কারণেই মেয়রমামদানি গর্বের সঙ্গে বিলটিকে সমর্থন করছেন।

বর্তমানে উবার, লিফট বা অন্যান্য অ্যাপভিত্তিক পরিষেবায় কাজ করা চালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই কোম্পানিগুলো প্রায়শই তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। চালকদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে তারা জানতেই পারেন না কেন তাদের বাদ দেওয়া হলো বা কীভাবে আপিল করবেন। ফলে দিন আনা দিন খাওয়া চালকদের পরিবারগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে। সমালোচকদের মতে, অস্বচ্ছ অ্যালগরিদমভিত্তিক সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমিকরা কার্যত করপোরেট প্রযুক্তি ব্যবস্থার হাতে জিম্মি।

নতুন পাসকৃত আইন অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো ন্যায্য কারণ, প্রকৃত অর্থনৈতিক কারণ বা আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়া চালককে বরখাস্ত করতে পারবে না। ডিঅ্যাকটিভেশনের আগে চালককে অগ্রিম নোটিশ দিতে হবে। তবে অ্যাকাউন্ট শেয়ারিং, জালিয়াতি, সহিংসতা বা বৈষম্যের মতো গুরুতর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। পাশাপাশি চালকদের জন্য একটি অনানুষ্ঠানিক সমাধান প্রক্রিয়া চালু করতে হবে এবং প্রয়োজনে তারা ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশনে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সংস্থাটি তদন্ত করে চালককে পুনর্বহালের নির্দেশও দিতে পারবে।

ডেলিভারি কর্মীদের জন্য পাস হওয়া ‘ইনট্রো ১৩৩২’ বিলটি ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। লস ডেলিভারিস্তাস ইউনিদোস নামে ডেলিভারি কর্মীদের সংগঠন বিলটিকে সমর্থন করেছে। এ আইনে উবার ইটস, ডোরড্যাশ, গ্রাবহাব, সিমলেস ও রিলে-এর মতো অ্যাপ কোম্পানিগুলোকে ডেলিভারি কর্মীদের ডিঅ্যাকটিভেশন বা অপসারণের ক্ষেত্রে স্পষ্ট কারণ জানাতে হবে, স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার আগে ১২০ দিনের নোটিশ দিতে হবে এবং আপিলের সুযোগ রাখতে হবে।

তবে উবার ও লিফট এই আইনগুলোর বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, এত দীর্ঘ নোটিশ বা আপিল প্রক্রিয়া যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। উবারের মুখপাত্র জশ গোল্ড এক বিবৃতিতে বলেন, এতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে কোনো চালককে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও ১৪ দিন পর্যন্ত তাকে যাত্রী পরিবহন করতে দিতে হবে, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এর বিপরীতে শ্রমিক সংগঠনগুলোর বক্তব্য, কোম্পানিগুলো নিরাপত্তার অজুহাতে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করছে। নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স বলছে, বহু চালক বিনা অপরাধে বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে কাজ হারাচ্ছেন। তাদের মতে, ন্যায্য প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলেই প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

সব মিলিয়ে, সিটি কাউন্সিলের এই উদ্যোগ নিউইয়র্কে গিগ অর্থনীতির শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্ম অর্থনীতিতে যেখানে কর্মীদের অবস্থান প্রায়ই অনিশ্চিত, সেখানে এই আইন পাস হলে তা হতে পারে একটি নজির, যা অন্যান্য শহর ও অঙ্গরাজ্যের জন্যও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এখন দেখার বিষয়, পূর্ণ কাউন্সিলে ভোটে বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেয়ে ভেটো অতিক্রম করতে পারে কি না। যদি তা হয়, তাহলে নিউইয়র্কের লাখো রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি চালকের জন্য এটি হবে চাকরির নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার এক বড় জয়।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)