গুলিতে আহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক, পুলিশের বক্তব্যে পরিবারের আপত্তি


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 04-02-2026

গুলিতে আহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক, পুলিশের বক্তব্যে পরিবারের আপত্তি

নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে গত ২৬ জানুয়ারি সোমবার এনওয়াইপিডির গুলিতে আহত হন ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক জাবেজ চক্রবর্তী। ঘটনাটি নিউইয়র্কবাসীকে স্তম্ভিত করে। পুলিশের গুলিতে আহত জাবেজ চক্রবর্তীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা ৯১১ নম্বরে ফোন করে পুলিশের নয়, শুধুমাত্র চিকিৎসা সহায়তার জন্য অ্যাম্বুলেন্স চেয়েছিলেন। পরিবারের এক মুখপাত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী অধিকার সংগঠন ডেসিস রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং (ড্রাম)-এর প্রতিনিধি সিমরান থিন্দ জানান, অন্তত চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জাবেজ চক্রবর্তী বর্তমানে ভেন্টিলেশনে আছেন এবং তার একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

এনওয়াইপিডির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পারসন্স বুলেভার্ড ও ৮৫ অ্যাভিনিউয়ের কাছে ব্রায়ারউডে অবস্থিত জাবেজের বাড়িতে কাচ ভাঙার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর জাবেজ একটি রান্নাঘরের ছুরি হাতে নিয়ে পুলিশের দিকে এগিয়ে আসেন। তবে সিমরান থিন্দ বলেন, পরিবারটি ৯১১ অপারেটরকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে জাবেজ কোনো হুমকি নন এবং তাকে কেবল হাসপাতালে নেওয়া দরকার। তার ভাষায়, তারা বলেছিল, সে কোনো বিপদ নয়, শুধু চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে হবে।

অন্যদিকে এনওয়াইপিডির এক মুখপাত্র জানান, ৯১১ কলকারী ‘ইনভলান্টারি রিমুভাল’-এর অনুরোধ করেছিলেন, যার ফলে একসঙ্গে ইএমএস ও পুলিশ পাঠানো হয়। ফায়ার ডিপার্টমেন্ট অব নিউইয়র্ক (এফডিএনওয়াই) জানিয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থায় ইএমএস ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। এনওয়াইপিডি আরো দাবি করেছে, পরিবারের আমন্ত্রণেই কর্মকর্তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন এবং জাবেজ ছুরি ধরার আগ পর্যন্ত তারা কোনো অস্ত্র বের করেননি।

গুলির ঘটনার পর পুলিশ পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন জব্দ করে এবং অভিবাসন সংক্রান্ত প্রশ্ন করে বলে পরিবার অভিযোগ করেছে। সিমরান থিন্দের দাবি, কর্মকর্তারা পরিবারটি কোন দেশ থেকে এসেছেন, সর্বশেষ কবে দেশে গিয়েছিলেন এবং পরিবারের কন্যাসন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছেন কি না-এসব প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। ঘটনার সঙ্গে এসব প্রশ্ন একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। তবে এনওয়াইপিডি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের মুখপাত্র জানান, অভিবাসন সংক্রান্ত প্রশ্ন করার কোনো প্রমাণ নেই এবং জেলা অ্যাটর্নির অনুরোধে পরে ফোনগুলো জব্দ করা হয়। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দফতরের মুখপাত্র ব্রেন্ডন ব্রশ জানান, চলমান তদন্ত নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেন না।

পরিবারটি জানিয়েছে, এই ঘটনা তাদের ২০২৪ সালের মার্চে ওজোন পার্কে এনওয়াইপিডির গুলিতে নিহত ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি খ্রিস্টান তরুণ উইন রোজারিওর ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। ওই ঘটনায় মানসিক সংকটে থাকা রোজারিওর পরিবার সাহায্যের জন্য ৯১১ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে তাকে গুলি করে হত্যা করে। সে মামলায় রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সিভিলিয়ান কমপ্লেইন্ট রিভিউ বোর্ড তাদের নিজস্ব তদন্তকারীদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনার সুপারিশ করেছে, যা বিভাগীয় বিচার প্রক্রিয়ার দিকে গড়াতে পারে।

জাবেজের মা জুলি চক্রবর্তীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরে সিমরান থিন্দ বলেন, উইনের সঙ্গে যা হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই যেন তার ছেলের সঙ্গেও কিছু ঘটে-এই ভয়েই তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তিনি ভীষণ ভয়ে ছিলেন যে পুলিশ তার ছেলেকেও মেরে ফেলতে পারে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)