যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী আটক ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণের একটি গোপন পরিকল্পনা প্রকাশ্যে এসেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)-এর দায়ের করা একটি ফ্রিডম অব ইনফরমেশন অ্যাক্ট মামলার মাধ্যমে প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বিতর্কিত অন্তত সাতটি স্থানে নতুন অভিবাসী আটক কেন্দ্র চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন শিল্প গুদামঘরকে রূপান্তর করে বৃহৎ আকারের আটক কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনাও করছে, যেখানে একসঙ্গে ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক রাখা হতে পারে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আটক অভিবাসীদের ওপর নির্যাতন ও মৃত্যুর ঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে।
এসিএলইউ, এএসিএলইউ অব ভার্জিনিয়া এবং এএসিএলইউ অব নর্থ ক্যারোলাইনার দায়ের করা ওই মামলার মাধ্যমে প্রকাশিত নতুন নথিতে জানা গেছে, আইসিই সাতটি নতুন সম্ভাব্য আটক কেন্দ্র চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত দুটি সাবেক সংশোধনাগার, যেগুলোর বিরুদ্ধে সহিংসতা, যৌন নির্যাতন ও দুর্নীতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
এএসিএলইউর ন্যাশনাল প্রিজন প্রজেক্টের সিনিয়র কাউন্সেল ইউনিস চো বলেন, নির্যাতন ও দুর্নীতির জন্য কুখ্যাত কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর কথা ভাবা অত্যন্ত নিন্দনীয়। করদাতাদের অর্থ দিয়ে এই সম্প্রসারণ চালানো হচ্ছে। বছরের প্রথম তিন সপ্তাহে আইসিই হেফাজতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন কেন্দ্রগুলো নিরাপদ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা আইসিই আমাদের দেয়নি।
আইস তথ্য চাওয়ার আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে এই মামলা দায়ের করে এসিএলইউ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো। মামলার ফলেই ৯৮ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ পায়। এর আগে একাধিক মামলার মাধ্যমে দেশজুড়ে আইসিইর আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণের নানা তথ্য প্রকাশ করেছে এসিএলইউ।
এএসিএলইউ অব নর্থ ক্যারোলাইনার স্টাফ অ্যাটর্নি মিশেল ডেলগাডো বলেন, আইস বরাবরই গোপনীয়তার ওপর নির্ভর করে। কঠোরভাবে সম্পাদিত (রেডাকটেড) নথিগুলো তাদের উদ্বেগজনক সম্প্রসারণ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। নিজেদের রাজ্যে ফেডারেল কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পেতে নাগরিকদের যখন লড়াই করতে হয়, তখন এসব সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে নেওয়া হচ্ছে-এমন বিশ্বাস রাখা কঠিন।
প্রকাশিত নথিতে সম্ভাব্য কেন্দ্রগুলোর পূর্ব ইতিহাস, পরিবহন সুবিধা, নিকটবর্তী হাসপাতাল, অভিবাসন আদালত ও আইনি সহায়তা পরিষেবার তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিবেচনাধীন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে:অগাস্টা কারেকশনাল সেন্টার, ক্রেইগসভিল, ভার্জিনিয়া: ২০২৪ সালে বন্ধ হওয়া এই কেন্দ্রে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক কর্মকর্তারা মাদক পাচারের দায়ে দোষ স্বীকার করেছেন।
রিভারস কারেকশনাল ফ্যাসিলিটি, উইন্টন, নর্থ ক্যারোলাইনা : জিও গ্রুপ পরিচালিত এ কেন্দ্রে সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আগে ফেডারেল চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল। সাবেক আমেরিকান হিব্রু একাডেমি, গ্রিনসবরো, নর্থ ক্যারোলাইনা : একসময় শিশু অভিবাসীদের আটক কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা থাকলেও ২০২৪ সালে তা বন্ধ করা হয়। গ্রিনসবরো এলাকায় অবস্থিত একটি অজ্ঞাত গ্রিনসবরো ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি। হোমল্যান্ডসইউএসএ পরিচালিত একটি অজ্ঞাত কেন্দ্র, যা অতীতে সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে সহায়তা করেছে। পেনসিলভানিয়ার হ্যারিসবার্গ এলাকায় অবস্থিত একটি অজ্ঞাত কেন্দ্র। আরো একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থিত কেন্দ্র, যেটিকে বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে কংগ্রেস আইসিইর আটক ব্যবস্থার জন্য ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। নতুন কেন্দ্রগুলো চালু হলে বর্তমানে আইসিই হেফাজতে থাকা ৭০ হাজারের বেশি অভিবাসীর সঙ্গে আরো বহু মানুষ আটক হতে পারেন। ২০২৬ সালের প্রথম তিন সপ্তাহেই আইসিই হেফাজতে ছয়জনের মৃত্যু মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগকে আরো জোরালো করেছে।
এএসিএলইউ অব ভার্জিনিয়ার সিনিয়র ইমিগ্র্যান্টস রাইটস অ্যাটর্নি সোফিয়া গ্রেগ বলেন,গোপনে অভিবাসী আটক ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ ট্রাম্প প্রশাসনকে আর দেওয়া যায় না। এসব কেন্দ্রে নির্যাতন ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন ব্যাপক। সরকার কোথায় এবং কীভাবে এ প্রাণঘাতী ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করতে চায়, তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।