নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার। সিটির এস্টোরিয়া ও লং আইল্যান্ড সিটি নিয়ে এই ডিস্ট্রিক্টের নির্বাচনী এলাকা গঠিত। মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব নেয়ার পর অ্যাসেম্বলী সদস্য হিসেবে তার এই পদটি খালি হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে এই শূন্য পদে বিশেষ নির্বাচন হচ্ছে। নানা কারণে নির্বাচনটি পুরো কমিউনিটিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনে লড়ছেন ৩ প্রার্থী যথাক্রমে বাংলাদেশী আমেরিকান মেরী জুবাইদা, ইকুয়েডোরিয়ান ডায়ান মরেনো, মিশরীয় রানা আবদেলহামিদ। নির্বাচনে আগাম ভোট শুরু হয়েছে ২৪ জানুয়ারি শনিবার, চলবে ১ ফেব্রুয়ারি রোববার পর্যন্ত। প্রচন্ড তুষারপাতের কারণে মাঝে রোববার ও সোমবার বন্ধ থাকলেও মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে আগাম ভোট। তবে আগাম ভোটে উপস্থিতির সংখ্যা খুবই কম। এই আসনে ভোটার প্রায় ৮০ হাজার। সবমিলিয়ে জমে উঠেছে অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন।
মূলত নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনের প্রাইমারীতে জোহরান মামদানির বিজয়ের পর থেকেই আসনটির নির্বাচন কমিউনিটির আলোচনায় উঠে আসে। সেই সাথে প্রার্থী হিসেবে উঠে আসে বাংলাদেশী আমেরিকান মেরী জুবাইদার নাম। গত জুলাই মাসে সম্ভাব্য শূন্য আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামেন তিনি। শুরু হয় আগাম গণসংযোগ ও ফান্ড রেইজিং। বাংলাদেশী কমিউনিটি সহ বিভিন্ন কমিউনিটির সমর্থনে তার প্রার্থীতা নিয়ে শুরু হয় চাঞ্চল্য। একক প্রার্থী হিসেবে নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালান তিনি। কিন্তু গত ৪ নভেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জোহরান মামদানির বিজয়ের পর পরবর্তী পর্যায়ে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন ইকুয়েডোরিয়ান ডায়ান মরেনো ও মিশরীয় রানা আবদেলহামিদ। নিজেকে সাউথ এশিয়ান মুসলিম হিসেবে দাবি করার কারণে এই আসনে সাউথ এশিয়ান এবং মুসলিম হিসেবে মেরী জুবাইদাকে সমর্থন করবেন মেয়র মামদানি এই প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশাকে গুড়ে বালি দিয়ে মামদানী সমর্থন ঘোষণা করেন ইকুয়েডোরিয়ান প্রার্থীর প্রতি। এর প্রেক্ষিতে এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটি ঐক্যবদ্ধভাবে সমর্থন করছে মেরী জোবাইদাকে।
এদিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির আনুষ্ঠানিক সমর্থন না পেলেও মেরী জোবাইদা থার্ড পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রচারণা চালান। তাকে এনড্রোর্স করেছে অ্যাসাল, বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রুপ (বাগ), নিউ আমেরিকান ডেমোক্র্যাটিক ক্লাব সহ বিভিন্ন সংগঠন। ইতোমধ্যেই প্রায় ৩ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তিনি রীতিমত চমক সৃষ্টি করে ভোটার তালিকায় নিজের প্রার্থীতা নিশ্চিত করেছেন। মাঠের রাজনীতি, ভোটার সংযোগ এবং কমিউনিটি সংগঠনে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় তার অবস্থান অত্যন্ত শক্ত বলেই মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
নিউইয়র্কে দক্ষিণ এশীয় ও বাংলাদেশী কমিউনিটির সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার স্বোচ্চার কন্ঠস্বর হিসেবে মেরী জোবাইদা ব্যাপকভাবে পরিচিতি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং কমিউনিটিকে আইনি সহায়তা বিষয়ক কার্যক্রমই তার জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি। তার নির্বাচনী সফল্য আর শক্ত প্রার্থী হিসেবে কমিউনিটির সমর্থন তাকে অনুপ্রাণীত করেছে। এজন্য সংশ্লিস্ট সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
নিজের ইনস্টাগ্রামের এক স্ট্যাটাসে মেরী লিখেছেন, ‘আমাদের কমিউনিটি এই প্রচারণাকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করেছে। প্রচন্ড শীতের মধ্যে দ্বারে দ্বারে ভোটারদের সাথে কথা বলেছি আমরা। যার প্রমাণ হচ্ছে প্রায় তিন হাজার ভোটার পিটিশনে স্বাক্ষর দিয়ে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন আমার প্রার্থিতাকে। এর মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে, প্রার্থী হিসেবে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত শক্ত ও সুসংহত।’
অপরদিকে কুইন্স ডেমোক্রেটিক পার্টি সমর্থন জানিয়েছে ডায়ানা মরেনোকে। তবে মাঠ পর্যায়ের ভোটার সংযোগ, কমিউনিটি উপস্থিতি এবং সরাসরি প্রচারনায় তিনি অনেকটাই পিছিয়ে। এস্টোরিয়া লং আইল্যান্ড সিটির বাসিন্দাদের কাছে ডায়ানা তেমন পরিচিত নন। এছাড়াও মাত্র কয়েকদিন আগে প্রভাবশালী পলিটিকো পত্রিকায় ডায়ানা মরেনো ও রানা আবদেলহামিদের বিরুদ্ধে তাদের স্টাফদের সাথে প্রতারণামূলক আচরণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে দুজনের প্রচারণাতেই।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ এর এই নির্বাচন কেবল একটি আসনের জন্য নয়, বরং কমিউনিটি ভিত্তিক নেতৃত্ব এবং অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক দৃশ্যমানতার প্রার্থীদের জন্য এক বড় পরীক্ষা।